নয়াদিল্লি : সমাজের কুঅভ্যাস তাড়াতে না পেরে বার বার মেয়েদের ওপর নীতি পুলিশির পথ বেছে নিতে হচ্ছে অনেককে। হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে মেয়েদের স্বাধীনতাইয়। এ বার সেই ভূমিকায় দেখা গেল দিল্লি আইআইটি কর্তৃপক্ষকে।
পুরো শরীর ঢাকা শোভন পোশাক পরতে হবে, তা পাশ্চাত্য বা ভারতীয় যা-ই হোক না কেন। এই মর্মে নোটিস জারি করল দিল্লি আইআইটি কর্তৃপক্ষ। ‘হাউস ডে’-র দিন আইআইটি-র হিমাদ্রি হস্টেলের মেয়েদের এই পোশাক পরতে হবে। বছরের এক দিন এক ঘণ্টার জন্য নিজের পরিচিত বাইরের কাউকে হস্টেলের ভেতরে আনতে পারেন পড়ুয়ারা, একেই বলা হয় ‘হাউস ডে’। ছাত্রীরা জানান, অন্যান্য বছর এই দিন উপলক্ষে মৌখিক ভাবে এই জাতীয় নির্দেশ দেওয়া হলেও, লিখিত ভাবে এই প্রথম। তবে পোশাক নির্বাচনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা দেশে এই প্রথম নয়। গত বছর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু কলেজের মেয়েদের হস্টেলেও এই জাতীয় নোটিস দেওয়া হয়েছিল।
২০ এপ্রিল আইআইটি-র এই হস্টেলে ‘হাউস ডে’। তার আগেই এই নোটিস দেওয়া হয়। নোটিসটিতে স্বাক্ষর করেন হস্টেলের ওয়ার্ডেন। এই নোটিসটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় ‘পিঞ্জরা টড’ নামের একটি দল। কলেজ, হস্টেল, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের ওপর আরোপ করা বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার এই দলটি। পোস্টে দলটি মন্তব্য করেছে, কর্তৃপক্ষ কেন মেয়েদের পোশাক নিয়ে এত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত? কেন তাদের নীতি পুলিশি করতে হচ্ছে? প্রতি দিন কোনো না কোনো ইনস্টিটিউটে মেয়েদের ওপর এমন উদ্ভট শর্ত আরোপ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এই হস্টেলের প্রসপেকটাসে স্পষ্ট ভাষায় লেখা ছিল — মেয়েরা যখন হস্টেলের খাবার জায়গায় আসবে, সকলের ব্যবহারের জায়গায় আসবে, কারোর সঙ্গে দেখা করতে আসবে – তখন ঠিকঠাক পোশাক পরবে। এটাই সমাজের স্বাভাবিক নিয়ম। এ ছাড়া প্রয়োজন পড়লে কী ধরনের পোশাক পরতে হবে সেই বিষয়ে নোটিস বোর্ডে লিখিত ভাবেও নির্দেশিকা দেওয়া হবে।
মেয়েদের চিৎকার চ্যাঁচামেচিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here