নয়াদিল্লি :  কথায় আছে শুদ্ধিকরণে গো-চোনা আর গোবর অপরিহার্য। অবশেষে কি না সেই গোবরেই শুদ্ধ হতে হবে ভারতীয় রেলকেও। আর তার জন্য এক আধটুকু নয় লাগবে ৪২ কোটি টাকা মূল্যের গোবর। সে আবার কেমন কথা? আসলে লাগবে ৩৩৫০ লরি গোবর।

বায়োটয়লেট বানানোর পরিকল্পনার সফল রূপায়ণে দরকার হাজার হাজার লরি গোবর। বায়োটয়লেট সম্পর্কে কম্পট্রলার অ্যান্ড অডিটার জেনারেল (কযাগ) সম্প্রতি প্রকশিত একটা রিপোর্ট পেশ করেছে। তাতেই বলা হয়েছে এ কথা।

সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে ভারতীয় রেলের ৪৪.৮% ট্রেনে বায়োটয়লেট বসানো হয়েছে। তার মধ্যে ২৫ হাজার টয়লেটে ত্রুটি বেরিয়েছে এক লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৮৯টি।

সেই সমস্যার সমাধানের জন্যই লাগবে ৩৩৫০ লরি ভর্তি এই বিপুল পরিমাণ গোবর। ২০১৮ সালে এই পরিমাণ গোবর কেনার পিছনেই খরচ হবে ৪২ কোটি টাকা। কারণ এই বায়োটয়লেট সক্রিয় হবে বিশেষ এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার হাত ধরে। আর সেই ব্যাকটেরিয়ার বাসভূমি গোবর।

এই বায়োটয়লেট বসানো হয়েছে টয়লেট সিটের ঠিক নীচেই। বড়ো ব্যাপারেরই এক একটা ক্ষুদ্র সংস্করণ আর কি। আর ক্ষুদ্র ব্যাপারটাকেই ঠিক ভাবে পরিচালনা করতে লাগবে গোবরের মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়া বাবাজিদের। তারাও কিনা মানুষের মলকে ভেঙে জল আর মিথেন বার করে দেবে। বাকি নির্যাসটা রেখে দেবে।

সংসদে এই প্রতিবেদন পেশের সময় রেলমন্ত্রক আত্মপক্ষ সমর্থনে দোষ চাপিয়েছে যাত্রীদের ঘাড়ে। জানিয়েছে, এই সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা তৈরি হয়েছে যাত্রীদের ভুলভাল কাজের জন্য।

তবে একটা মজার ব্যাপার হল, সে যত ভালো ব্যবস্থাই করার চেষ্টা চলুক ঘুরে ফিরে নিরাপত্তার মাছি যে বার বার ভন ভন করে। এখন যাত্রীদের জন্য বায়োটয়লেট নাকি যাত্রীর নিরাপত্তা? কোনটাকে গুরুত্ব দেবে সে রেলমন্ত্রকই ঠিক করুক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন