india tourism

ওয়েবডেস্ক: পর্যটন শিল্পকে আরও উন্নত করার জন্য আসন্ন বাজেটে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে কেন্দ্র। করের হার কমানোর পাশাপাশি এই বিভাগের আর্থিক বৃদ্ধির জন্য কিছু ঘোষণা করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে পর্যটন শিল্পে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।

কেন্দ্রের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে মানুষের মধ্যে ভ্রমণের উৎসাহ বাড়বে এবং তার ফলে আখেরে লাভ হবে দেশেরই। গত বছর নতুন নতুন গন্তব্যের কথা ঘোষণা করেছিল বিমানসংস্থাগুলি। যার ফলে এখন লাভের মুখ দেখছে তারা।

২০১৭-এর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরে দেশের পর্যটন শিল্পে বৃদ্ধির হার দশ শতাংশ। তার আগের বছর, ঠিক একই সময়েই বৃদ্ধির হার ছিল ৮ শতাংশ। সূত্রের খবর, পর্যটন শিল্পে এই মুহূর্তে প্রায় চার কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কেন্দ্রের লক্ষ্য আগামী এক দশকের মধ্যে আরও এক কোটি কর্মসংস্থান বাড়ানো।

অর্থমন্ত্রকের এক আধিকারিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, “পর্যটনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করা হবে বাজেটে।” জিএসটির হার কমানোর কথা অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি যে ঘোষণা করতে পারেন, সে ব্যাপারেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ওই আধিকারিক। বর্তমানে ১০০০ থেকে ২৫০০-এর ঘরভাড়ায় ১২ শতাংশ, ২৫০০ থেকে ৪,৯৯৯ পর্যন্ত ১৮ শতাংশ এবং ৫,০০০-এর ওপরে ২৮ শতাংশ হারে জিএসটি নেয় কেন্দ্র।

এই পদক্ষেপ সত্যি সত্যি নেওয়া হলে আখেরে লাভবান হবে বিভিন্ন বিমানসংস্থা, হোটেল সংস্থা এবং ট্যুর অপারেটররা। ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্যুর অপেরাটর্স-এর (আইএটিও) সভাপতি প্রণব সরকার বলেন, “ভারতে বিমানভ্রমণ এবং হোটেল পরিষেবা বাবদ একজন পর্যটককে অন্তত তিরিশ শতাংশ কর দিতে হয়। অন্য দিকে সিঙ্গাপুর, তাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে করের হার মাত্র দশ শতাংশ।”

সূত্রের মতে, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন হোটেল তৈরির জন্য পর্যটন শিল্পে আরও অনুদান বাড়াতে পারে কেন্দ্র। অর্থমন্ত্রকের অন্য এক আধিকারিকের কথায়, নতুন টুরিস্ট ট্রেন চালু করা এবং নতুন রাস্তা তৈরিতে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য প্রাথমিক ভাবে রাজি হয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর পাশাপাশি অপরিচিত এবং স্বল্প পরিচিত বিমান বন্দরগুলিতে বিমান পরিষেবা শুরু করার জন্য বিভিন্ন বিমান সংস্থাকে আর্থিক সুযোগসুবিধাও দিতে পারে কেন্দ্র।

গত সপ্তাহে সংসদে বক্তৃতা দিতে গিয়ে পর্যটনমন্ত্রী কেজে আলফোন্স বলেন, ভারতে অন্তত দু’লক্ষ নতুন হোটেলঘর দরকার। তিনি বলেছিলেন, “পর্যটন শিল্পে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আর্থিক বরাদ্দ প্রয়োজন।” পরে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আগে যে সব অঞ্চলকে লোকে পর্যটনস্থল বলে গণ্য করত না, সে সব জায়গাকেও এ বার পর্যটন শিল্পের আওতায় আনা হবে। উত্তরপূর্বে পর্যটন শিল্পকে উন্নত করা তাঁর অগ্রাধিকার বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এ দিকে ২০১৭-এর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পর্যটন ক্ষেত্রে আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছে বিভিন্ন অনলাইন হোটেল বুকিং সংস্থাগুলি। আগের বছরের এই সময়ের তুলনায় আয় বেড়েছে ১৫.৬ শতাংশ। এর কারণ হিসেবে রয়েছে সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধি। অন্য দিকে ঠিক এই সময়ে অন্তত ৯০ লক্ষ বিদেশি পর্যটক ভারতে এসেছেন।

দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকরাও ক্রমশ অনলাইন পোর্টালগুলিতেই ভরসা করছেন। বিভিন্ন অনলাইন সংস্থার দাবি, সরকারের সমর্থন থাকলে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে আইটি সেক্টরের পরেই স্থান পেতে পারে পর্যটন শিল্প। আইএটিও-এর প্রণববাবুর কথায়, “পর্যটন বিভাগে বছরে ১৫-২০ আর্থিক বৃদ্ধি আশা করার জন্য সরকারের উচিত করের বোঝা কমানো, বিভিন্ন নিয়ম শিথিল করা এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন করা।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here