rape

ওয়েবডেস্ক: ভারতে নারীধর্ষণ নিয়ে সারা বিশ্বে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। কিন্তু এই ধর্ষণ ছাড়াও, এ দেশে যে ভাবে মহিলাদের অধিকার খর্ব করা হয়, যে ভাবে দিনের পর দিন মহিলারা পীড়নের শিকার হন সেটা এক কথায় বিশ্বের বৃহত্তম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এমনই মনে করেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী দীপা নারায়ণ।

ব্রিটেনের দৈনিক গার্ডিয়ানে প্রকাশিত তাঁর একটি প্রতিবেদনে দীপা লিখেছেন, ২০১৩-তে ধর্ষণের আইন অনেক কড়া হলেও মেয়েদের, বিশেষ করে নাবালিকারদের ধর্ষণের ঘটনা অনেক বেড়ে গিয়েছে। ‘ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর’ একটি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-এর থেকে ২০১৬-তে নাবালিকা ধর্ষণ বেড়েছে ৮২ শতাংশ। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা অপরিচিত নন, বরং আত্মীয়ই।

দীপার মতে, যে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘বেটি বচাও বেটি পড়াও’-এর মতো প্রকল্প ঘোষণা করতে হয়, সে দেশে মহিলাদের অবস্থা ঠিক কতটা নীচে সেটা সহজেই অনুমেয়। দেশের ছ’কোটি পঞ্চাশ লক্ষ মহিলার অবস্থা ঠিক কী রকম, সেটা তিনি শহরাঞ্চলের ছ’শো পুরুষ এবং মহিলার সাক্ষাৎকারেই বুঝে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দীপা।

ভারতে মহিলারা নিজেদের বাড়ির চৌহদ্দিতেই নিপীড়নের শিকার বলে মনে করেন তিনি। নিজেদের বাড়িতেই মেয়েদের ঘরবন্দি করে রাখা হয়। ভারতে মহিলাদের যে খুব একটা বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না সেটা তার ‘সেক্স রেশিও’ থেকেই বোঝা যায়। এমনকি সমৃদ্ধশালী পরিবারেও মহিলাদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় না বলে মনে করেন তিনি।

শুধু  তা-ই নয়, যৌন হয়রানির শিকার হয়েও কাউকে বলতে না পারাটাও মহিলাদের কাছে একটা বড়ো সমস্যা। যত জন মহিলার সাক্ষাৎকার দীপা নিয়েছিলেন সবাই কোনো না কোনো ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। এর মধ্যে মাত্র দু’জন তাঁদের মায়েদের কাছে খোলাখুলি সব কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। কেন্দ্রের একটি তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ৪২ শতাংশ মহিলাই কোনো না কোনো ভাবে যৌন হয়রানির শিকার।

মহিলাদের কথা বলারও কোনো অধিকার নেই বলে মনে করেন দীপা। “মহিলারা কোনো ঘটনার প্রতিবাদ জানাবেন কি! তাঁদের তো ছোটো থেকেই একটা কথা বলা হয়েছে, ‘ধীরে বোলো’।” এমনই বলেন দীপা। জীবনে এত অবমাননা, লাঞ্ছনার শিকার মহিলারা হন, কিন্তু কখনোই সে ভাবে প্রতিবাদের স্বর গর্জে ওঠে না।

যত জনের সাক্ষাৎকার তিনি নিয়েছিলেন তার মধ্যে মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে ৫০ শতাংশের বেশিই বলেছেন যে কখনও কখনও মহিলাদের মার খাওয়া উচিত। তিনি বলেন, “পণের দাবিতে এখনও দেশের প্রতি ঘণ্টায় একজন করে মহিলা শ্বশুরবাড়িতে মারা যান। এ দেশে স্বামীর ওপরে নির্ভরশীল মহিলাদের ভালো এবং স্বাধীনচেতা মহিলাদের দুশ্চরিত্র আখ্যা দেওয়া হয়।”

এই সমাজকর্মীর কথায়, মহিলাদের ওপরে এ রকম ভাবে দমননীতি প্রয়োগ করে আমরা আমাদের সংস্কৃতির অবমাননা করছি। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আমাদের আসতেই হবে।

সূত্র:দ্য গার্ডিয়ান

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here