ভারত বায়োটেকের কোভিড টিকার চূড়ান্ত ট্রায়াল, কলকাতাতেও শুরু স্বেচ্ছাসেবক নথিভুক্তি

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভিড-১৯ (Covid-19) টিকা কোভ্যাকসিনের (Covaxin) তৃতীয় তথা চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হয়ে গেল। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ-এর (ICMR) সহযোগিতায় এই টিকা তৈরি করছে ভারত বায়োটেক।

সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, দেশের ১৭টি রাজ্যের ২৩টি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে মোট ২৫ হাজার ৮০০ জনের উপর এই সম্ভাব্য টিকার পরীক্ষা হবে। এমনকী পশ্চিমবঙ্গেও স্বেচ্ছাসেবক নথিভুক্তি হয়েছেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই ভারতেও করোনাভাইরাস প্রতিরোধী একাধিক ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কাজ চলছে। তবে এগুলির মধ্যে কোভ্যাকসিনই প্রথম তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু করল।

কী ভাবে ট্রায়াল?

ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকরা ২৮ দিনের ব্যবধানে দু’টি ডোজ পাবেন। কোভ্যাকসিন টিকার ডোজ দেওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবককে প্ল্যাসেবো দেওয়া হবে। পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সময় একটি দলকে দেওয়া হয় ওই ভ্যাকসিনের ডোজ, অন্য একটি দলকে দেওয়া হয় ঔষধি গুণ নেই, এমন তরল বা ভুয়ো ওষুধ। একেই প্ল্যাসেবো বলা হয়।

১৮ থেকে ৯৯ বছর বয়সি স্বেচ্ছাসেবকদের উপর এই টিকার চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল হবে। তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল দ্রুত শেষ করে তিন-চার মাসের মধ্যে ফলাফল চলে আসার ব্যাপারে আশাবাদী সংস্থা। যে কারণে স্বেচ্ছাসেবক নথিভুক্তিকরণের প্রক্রিয়াও দ্রুত এগোচ্ছে।

জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে থাকা আইসিএমআরের সংস্থা বেলেঘাটার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কলেরা অ্যান্ড এনটেরিক ডিজিসেস (নাইসেড)-এ আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবকরা নাম নথিভুক্তির জন্য যোগাযোগ করতে পারবেন।

আর যেখানে ট্রায়াল

দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এইএমস), গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতাল (নয়াদিল্লি), আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, মুম্বইয়ের গ্র্যান্ট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ এবং স্যার জেজে গ্রুপ অব হসপিটালস, লোকমান্য তিলক পৌর জেনারেল হাসপাতাল এবং মেডিক্যালল কলেজ (সিয়ন হাসপাতাল), ডিরেক্টরেট অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড প্রিভেন্টিভ মেডিসিন, চেন্নাই এবং কিং জর্জ হাসপাতাল, ভাইজ্যাগ-সহ ২২টি প্রতিষ্ঠানে কোভ্যাকসিনের চূড়ান্ত ট্রায়াল পরিচালিত হবে।

ভারতের ৩টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন

প্রস্তুতকারক সংস্থার কাছ থেকে সরাসরি সংগ্রহ করে অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা গোষ্ঠীর টিকাকরণ করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতে ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিন ছাড়াও আরও তিনটি ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ যথেষ্ট এগিয়েছে।

*চলতি মাসেই ভারতে শুরু হতে পারে রাশিয়ার তৈরি করোনা ভ্য়াকসিন স্পুটনিক-ভি (Sputnik-V)-র দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ। ভারতে স্পুটনিক-ভি-র বরাত পেয়েছে ডা. রেড্ডি’জ ল্যাবরেটরিজ। পশ্চিমবঙ্গে সাইট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ক্লিনিমেড লাইফসায়েন্সেস ( CliniMed LifeSciences) ট্রায়াল পরিচালনা করছে।

*অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় ভারতীয় সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট (SII)-এর তৈরি ভ্যাকসিনের ভারতীয় নাম ‘কোভিশিল্ড’ (Covishield)। কোভিশিল্ড-এর তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকদের নামের তালিকা সম্পূর্ণ করেছে সেরাম ইনস্টিটিউট। বিভিন্ন জায়গায় এই সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য ব্যয় বহন করছে আইসিএমআর। ভ্যাকসিনের জন্য অন্যান্য খরচের দেখভাল করছে সেরাম।

*জাইডাস ক্যাডিলার (Zydus Cadila) তৈরি ভ্যাকসিনের নাম জাইকোভ-ডি (ZyCoV-D)। এর দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ হয়েছে। সংস্থা জানিয়েছে, এর পর তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হবে।

আরও পড়তে পারেন: ৪৩ শতাংশ শিশুর শরীরে করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডি রয়েছে, বলছে সমীক্ষা

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন