জওহরলাল নেহরু ও নরেন্দ্র মোদী
ভারতের প্রথম এবং সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী— জওহরলাল নেহরু ও নরেন্দ্র মোদী। প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ভারত। বহুকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা লাভের পর দেশের সামনে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন। দেশকে এই দুই দিক থেকেই স্বাবলম্বী করার আশা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

দারিদ্র মোচনের জন্য বিভিন্ন সরকারের শাসনকালে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। একই সঙ্গে অর্থনীতির জন্য আরেকটি বড়ো প্রতিবন্ধকতা নিরক্ষরতা দূরীকরণেও জোর দেওয়া হয়েছে এই সাড়ে সাত দশকে। স্বাধীনতার সময়, ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ কোটি। সে সম সাক্ষরতার হার ছিল মাত্র ১২ শতাংশ বা প্রায় ৪ কোটি। সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মধ্যে ছিল কৃষিক্ষেত্রে স্থবিরতা ঘোচানো এবং দুর্বল শিল্প-বাণিজ্যকে শক্তিশালী করে তোলা।

এই দীর্ঘ সময়ে অর্থনীতিতে অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছে দেশ। কৃষি সংকট, তিনটি যুদ্ধ, ১৯৯১ সালের বেসরকারিকরণ পদক্ষেপ, নোটবন্দি, জিএসটি প্রবর্তন যেগুলির মধ্যে অন্যতম।

প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, ১৯৫১

স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা পেশ করেন সংসদে। হ্যারড-ডোমার মডেলের উপর ভিত্তি করে বেশ কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের মূল শিল্প ক্ষেত্রের উন্নয়ন।

সবুজ বিপ্লব, ১৯৬৯

ষাটের দশকে ভারত সবচেয়ে দুর্বিষহ খরার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছিল। খাদ্য ও শস্য সরবরাহের জন্য বাইরের দেশের উপরেও নির্ভর করতে হয়েছিল। কিন্তু এই সংকট পরবর্তীতে আশীর্বাদ হিসাবে নিয়ে এসেছিল সবুজ বিপ্লব। খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিল দেশ।

স্বর্ণযুগের সূচনা, ১৯৯১

ভারতীয় অর্থনীতির স্বর্ণযুগের সূচনা হয় ১৯৯১ সালে। ১৮৪-৮৫ সালের শেষের দিকে, মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে ক্রমশ বেড়ে চলে রাজস্ব ঘাটতি। ভারতের বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ৩,৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। ১৯৯০-৯১ সালে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে হয়ে হয়ে যায় ৬,৯০০ কোটি ডলার। শূন্য হয়ে যায় বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডার। ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিংহ রাও এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে মনমোহন সিংহের সরকার বেশ কয়েকটি নীতি ঘোষণা করেছিল যা ভারতীয় অর্থনীতির চেহারা বদলে দেয়। যেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উদারীকরণ, বেসরকারিকরণ এবং বিশ্বায়ন।

বিশ্ব মন্দা, ২০০৮

২০০৮ সালের বিশ্ব মন্দার প্রভাব পড়ে সারা দুনিয়ায়। লেম্যান ব্রাদার্সের পতন সূচনা করেছিল বিশ্ব মন্দার। বেশ কিছু দেশের অর্থনীতি ২০০৮-০৯ সালে সবচেয়ে বেশি পতনের মুখোমুখি হয়। তবে সেই মন্দার আঁচ এড়াতে সক্ষম হয় ভারত। ওই আর্থিক বছরে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৭ শতাংশ। রিপোর্ট অনুযায়ী, কম প্রভাবিত হওয়ার কারণ ভারতের রফতানি সে সময় ছিল জিডিপির মাত্র ১৫ শতাংশ।

নোটবন্দি এবং জিএসটি

২০১৬ সালে হয়েছিল নোটবন্দি। ওই বছরের ৮ নভেম্বর পুরনো ৫০০ টাকা এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকার। কালো টাকার লেনদেন রুখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ভারতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নোটবন্দির কয়েক মাস পরে পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি চালু সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয় সংসদে।

কোভিড বিধ্বস্ত অর্থনীতি, ২০২০

কোভিড-১৯ অতিমারির জেরে বিধ্বস্ত বিশ্ব অর্থনীতি। এই একটা রোগ দেশের ২৩ কোটি মানুষকে দারিদ্রসীমার নীচে ঠেলে দেয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, মহামারির গত এক বছরে গ্রামীণ ভারতে ১৫ শতাংশ এবং শহুরে ভারতে ২০ শতাংশ দারিদ্র বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই সময়কালে ঘোষিত হয়েছিল বেশ কিছু প্যাকেজ।

তথ্যসূত্র: টাইমস নাও

আরও পড়তে পারেন: 

১৮৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১৪০টিতে জয় বিজেপির, গোয়ায় খাতা খুলল তৃণমূল

জেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা হচ্ছে না! পার্থকে দেখতে প্রেসিডেন্সিতে এসএসকেএম-এর চিকিৎসক দল

এ বার সিবিআই-এর নজরে বোলপুর হাসপাতালের সুপার? অনুব্রত-কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনা

ফের কোভিড আক্রান্ত সোনিয়া গান্ধী, গত তিনমাসে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার

এক দেশ এক প্রবেশিকা: নিট, জয়েন্ট এন্ট্রাস পরীক্ষাকে এক ছাতার তলায় আনার পরিকল্পনা ইউজিসি-র

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন