ডিব্রুগড় : অসমে ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর তৈরি হয়েছে ভারতের দীর্ঘতম নদীসেতু। দৈর্ঘ্য প্রায় ৯.১৫ কিলোমিটার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৬ মে ঢোলা ও সদিয়ার মধ্যে সংযোগকারী এই সেতুটি উদ্বোধন করবেন। এই সেতু মুম্বই-এর বান্দ্রা-ওরলি সংযোগসেতুর থেকেও ৩.৫৫ কিলোমিটার বেশি লম্বা। এটি এমন ভাবেই বানানো হয়েছে, যে এই সেতু ৬০ টন ওজনের যুদ্ধ ট্যাঙ্ক বহন করতে পারে। সেতুটি বানানো শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। খরচ হয়েছে ৯৩৫ কোটি টাকা। এটি চিনের সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

ঢোলা-সদিয়া ব্রিজটি অসমের রাজধানী দিসপুর থেকে ৫৪০ কিলোমিটার আর অরুণাচলের রাজধানী ইটানগর থকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এত দিন কালিয়াভোমরা সেতুর পর উত্তর দিকে ৩৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে ঢোলা পর্যন্ত আর কোনো সেতু ছিল না ব্রহ্মপুত্রের ওপর। সেতুটা চালু হয়ে গেলে এই দু’ রাজ্যের মধ্যে যাতায়াতের সময় প্রায় ৪ ঘণ্টা কম লাগবে।

বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, এই সেতুটির মাধ্যমে চিন-ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। পাশাপাশি এই সেতুটির সাহায্যে অরুণাচল প্রদেশ আর অসমের বাসিন্দারা নিকটবর্তী রেল স্টেশন তিনসুকিয়া আর বিমানবন্দর ডিব্রুগড়ে সহজেই পৌঁছোতে পারবেন।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, সেতুটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালেই। কিন্তু আদপে কাজ কিছুই হয়নি ২০১৪ সাল অবধি। তার পর ২০১৪ সালে এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুরোদমে এর কাজ শুরু হয়। কৌশলগত ভাবে উত্তরপূর্বাঞ্চলের এই সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি যেমন দুই রাজ্যের আমজনতার খুবই কাজে লাগবে, তেমনই সেনাবাহিনীও ব্যাপক ভাবে এই সেতুটিকে কাজে লাগাতে পারবে। এই অঞ্চলটি দেশের জন্য খুবই গুরুত্ব। এই সেতুটি তৈরির ফলে যে কোনো রকম উত্তেজনা বা যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনী ও কামান বা ও-ই জাতীয় যুদ্ধসামগ্রী সহজে নিয়ে যাওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here