ওয়েবডেস্ক: গুজরাতের ছোট্টো শহর রাজপিপলার যুবরাজ তিনি। মানবেন্দ্র সিং গোহিল। যুবরাজ যখন, প্রাসাদ তো আছেই। কিন্তু মা নেই। থেকেও নেই। এক দশকেরও আগে কাগজে পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন দিয়ে তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র করেছিলেন তাঁর মা। কারণ ৫২ বছর বয়সি মানবেন্দ্র ঘোষিত ভাবেই সমকামী। ভারত থেকে রাজতন্ত্র আনুষ্ঠানিক ভাবে উধাও অনেকদিন আগে থেকেই। তবু তাঁর পরিচয় ‘ভারতের একমাত্র স্বঘোষিত সমকামী যুবরাজ’।

সেই মানবেন্দ্র এবার তাঁর প্রাসাদের দরজা খুলে দিলেন নিরাপত্তার অভাবে ভুগতে থাকা তাঁর শহরের সমকামী-রূপান্তরকামী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু যৌন পছন্দের মানুষদের জন্য। মানবেন্দ্রর কথায়, “মুম্বই বা দিল্লির মতো শহরে সংখ্যালঘু যৌন পছন্দের মানুষদের জন্য বেশ কিছু জায়গা রয়েছে কিন্তু রাজপিপলার মতো ছোটো শহরে তা নেই। সেখানে সনাতন সামন্ততান্ত্রিক মূল্যবোধই রয়েছে প্রাধান্যকারী অবস্থানে। যদি এখানে কাউকে সমকামী বা রূপান্তরকামী বলে জানতে পারা যায়, তাহলে তাঁর উপর পরিবার চাপ সৃষ্টি করে। কাউকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় বা কাউকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়”।

তাই গোহিল তাঁর প্রাসাদের সামনের মাঠটিতে সমকামী, উভকামী ও রূপান্তরকামীদের জন্য একটি সহায়তা কেন্দ্র তৈরি করছেন। সেখানে তাঁদের থাকার ঘর থাকবে, চিকিৎসা কেন্দ্র থাকবে এবং তাঁদের ইংরাজি শেখানো ও অন্যান্য নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে, যার দ্বারা তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। মানবেন্দ্র বলেন, “আমার যেহেতু কোনো সন্তান হবে না, তাই আমি এই জায়গাটিকে এই কাজে ব্যবহার করব বলে মনস্থির করেছি”।

এর জন্য ১৯২৭ সালে তৈরি তাঁর ১৫ একর জুড়ে থাকা প্রাসাদটি তিনি পুনর্নির্মাণ করছেন। বসাচ্ছেন সৌর বিদ্যুতের প্যানেল। কিছুটা ফাকা জমি রেখে দিচ্ছেন চৈব চাষের জন্য। পুরো কেন্দ্রটাই হবে তাঁর তৈরি লক্ষ্য ট্রাস্টের মালিকানায়। এর জন্য জনগণের থেকে অর্থ সাহায্যেরও আবেদন করেছে ওই ট্রাস্ট।

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন