indira-gabdhi

ওয়েবডেস্ক: “রাজনৈতিক জীবনের দু’টি মারাত্মক ভুল করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। এক, ১৯৭৫ সালে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা। দুই, অপারেশন ‘ব্লু স্টার’-এর জন্য সম্মতি দেওয়া”। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী কে নটবর  সিং তাঁর লেখা একতি বইতে এই উক্তি করেছেন।

তিনি বলেন, ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ছিলেন খুবই শক্তিশালী আর দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্ব। ইন্দিরা ছিলেন মানবতাবাদী।

নটবর সিং সিভিল সার্ভিস অফিসার হিসাবে ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দফতরে কাজও করেন।

তিনি বলেছেন, কখনও কখনও ইন্দিরা গান্ধীকে খুবই গম্ভীর, কঠিন, দয়ামায়াহীন, চুপচাপ স্বভাবের বলে মনে হত। আবার কখনও কখনও খুবই প্রাণবন্ত, হাসিখুশি, স্নেহময়ী, সুন্দর যত্নবান মানবিক চরিত্রে ধরা দিতেন। একটা কমনীয় ভাব ছিল তাঁর মধ্যে। তিনি পড়তে খুবই ভালোবাসতেন।

নটবর সিং তাঁর লেখায় আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যেমন রুচিশীলা ছিলেন, তেমন অসাধারণ সব বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ছিল তাঁর মধ্যে।

ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা ঘোষণা আর ব্লুস্টারের অনুমতি দেওয়ার মতো দু’টি সাংঘাতিক ভুল করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন দেশের একজন মহান প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন : জরুরি অবস্থা ও ব্লু স্টার ইন্দিরা গান্ধীর মারাত্মক দুই ভুল: কে নটবর সিং

নটবর সিং কতকগুলি চিঠির সংকলন প্রকাশ করেছেন। এই চিঠিগুলি তাঁর কর্মজীবনের অঙ্গ। এতে রয়েছে বিভিন্ন নামজাদা ব্যক্তিত্বের চিঠি। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চিঠিও রয়েছে। তার থেকেই বিভিন্ন মানুষের পাশাপাশি  ইন্দিরা সম্পর্কেও ধারণা আর অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। এই সব চিঠি তাঁকে জীবন আর বিশ্ব সম্পর্কে ভীষণ ভাবে সমৃদ্ধ করেছে।

ইন্দিরা গান্ধীর পাঠানো বিভিন্ন মুহূর্তের চিঠি আছে এই সংগ্রহে।

সেখানে আছে ১৯৮০ সালের একটি চিঠি। তখন ইসলামাবাদে ভারতের হাইকমিশনার সিং। ইন্দিরা লিখছেন, বাস্তব সমস্যা এখন শুরু হচ্ছে। মানুষের চাহিদা অনেক। কিন্তু পরিস্থিতি খুবই জটিল, অর্থনৈতিক আর রাজনৈতিক দুই-ই। এই পরিস্থিতিতে আশাবাদী হওয়া ছাড়া উপায় নেই। যদি সকলে ধৈর্য ধরে তা হলে এই কঠিন পাথুরে পথের মতো দুঃসময় পেরিয়ে যাওয়া যাবে। আর অল্প কয়েক মাসের মধ্যে মসৃণ পথে পৌঁছোনো যাবে। আবার সেখানে উন্নতির আশা করা যাবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here