indira-gabdhi

ওয়েবডেস্ক: “আমি আজ আছি কাল নাও থাকতে পারি। আমি বাঁচলাম কি মরলাম তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি দীর্ঘ জীবন পেয়েছি এবং আমি গর্বিত গোটা জীবনটা আমার দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছি। সারা জীবন, আমার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আমি তাই করব। আমার সমস্ত রক্তবিন্দু ভারতকে শক্তিশালী করবে, একত্রিত রাখবে” – ইন্দিরা গান্ধী।

দেশের একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী আয়রন লেডি ইন্দিরা গান্ধী। নিজেরই দুই শিখ নিরাপত্তারক্ষীর হাতে খুন হন। ঘটনাটি গোট দেশকে শুধু যে নাড়িয়ে দিয়েছিল তাই নয় দেশময় একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিও সৃষ্টি করেছিল।

হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগের ঘটনা। অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে জঙ্গি হামলা হয়। সেই হামলা ঠেকাতে সৈন্যবাহিনী পাঠাতে হয়। স্বভাবতই প্রচুর গোলাগুলি বর্ষণ হয়। প্রাণ যায় সৈন্য আর শিখ ধর্মাবলম্বী মিলিয়ে শতাধিক মানুষের। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয় মন্দিরেরও। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে হত্যা করা হয় ইন্দিরা গান্ধীকে। তার পরই দেশে আগুন জ্বলে ওঠে। ক্ষিপ্ত জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। দেশময় ক্ষোভের মুখে প্রাণ হারান প্রায় ৩০০০ শিখ।

দিনটি ৩১ অক্টোবর। ১৯৮৪ সাল। সময় সকাল ৯টা ১০। একজন ইংরেজ অভিনেতা পিটার উস্তিনভের সঙ্গে দেখা করার জন্য নয়াদিল্লির ১ নম্বর সফদরজং রোডের বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাগানে পা রেখেছিলেন ইন্দিরা। দরজায় তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল তাঁরই দুই দেহরক্ষী বিয়ন্ত সিং আর সওয়ন্ত সিং। সঙ্গে সঙ্গে আয়রন লেডির শরীর ঝাঁঝরা করে দেয় তাদের হাতের বন্দুক থেকে ছুটে আসা গুলি। সব মিলিয়ে ৩৩ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় তাঁকে লক্ষ করে।

সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির এআইআইএমএস-এ। অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা করা যায়নি। জানা যায়, ৩৩টির মধ্যে ৩০টি তাঁর গায়ে লাগে। ২৩টি শরীর এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে যায়। সাতটি ভেতরেই রয়ে যায়।

আরও পড়ুন : ইন্দিরা গান্ধীর অদেখা কিছু ছবি

প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা হয় দূরদর্শনের সন্ধ্যা আটটার খবরে। তার পরই গোটা দেশ আগুনের শিখায় পরিণত হয়।

ও দিকে দুই হত্যাকারী দেহরক্ষীর মধ্যে বিয়ন্ত সিং ঘটনার পর কয়েক মিনিটের মধ্যে আত্মহত্যা করে। আর সওয়ন্ত সিংকে গ্রেফতার করে আইটিবিপি আর বাকি নিরাপত্তারক্ষীরা মিলে। পরে ষড়যন্ত্রকারী কেহর সিং আর সওয়ন্ত সিং-এর ফাঁসির সাজা হয়।

ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন রাজীব গান্ধী।