indira-gabdhi

ওয়েবডেস্ক: ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম একটি নাম ইন্দিরা গান্ধী। জন্ম ইলাহাবাদে। সাল ১৯১৭, ১৯ নভেম্বর। বাবা জওহরলাল নেহরু আর মা কমলা নেহরু। নামী মানুষের মেয়ে হলেও ছোটোবেলাটা কেটেছে দুঃখেই। ছোটোবেলাতেই ইন্দিরা তাঁর ছোটো ভাইকে হারান। বাবা কাজের জন্য প্রায় সব সময় পরিবার থেকে দূরে থাকতেন। মা প্রায়ই রোগভোগে কষ্ট পেতেন।

১৯৪২ সালে তিনি ইংরেজ সরকারের বিরূদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় প্রায় ১৩ মাস কারাবাস করেছিলেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে ‘মাঙ্কি ব্রিগেড’ নামে একটি বাহিনী গঠন করেন। এই বাহিনী ইংরেজদের ওপর নজর রাখত আর জাতীয় পতাকা বিলি করত।

মায়ের মৃত্যুর পর ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি নিয়ে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে চলে যান ইন্দিরা।

আরও পড়ুন : ‘আমি আজ আছি কাল নাও থাকতে পারি’, কেন এমন বলেছিলেন ইন্দিরা?

১৯৪৭ সালে তিনি ছোটোবেলার বন্ধু ফিরোজ গান্ধীকে বিবাহ করেন। তাঁদের দু’টি সন্তান হয় –রাজীব গান্ধী ও সঞ্জয় গান্ধী।

১৯৬৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ১৯৭৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত চলে তাঁর প্রথম দফার প্রধানমন্ত্রিত্ব। দ্বিতীয় দফা ১৯৮০ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৮৪ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত। তিনি হলেন দেশের একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের উন্নতি হয়। তিনি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাগুলির ওপর জোর দেন। তিনটির মধ্যে দু’টি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আর্থিক উন্নতি ত্বরান্বিত হয়।

তাঁর নেতৃত্বে ১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের জাতীয়করণ হয়। ছোটো ও মাঝারি মাপের শিল্প ও কৃষি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি হয়। তা ছাড়াও স্টিল, কয়লা, বয়ন ইত্যাদি শিল্পগুলিকে জাতীয়করণ করা হয়। বেসরকারি সংস্থাগুলিকে কড়া নিয়মের বাঁধনে বেঁধে ফেলা হয়।

তাঁর সময়ই হয় ‘সবুজ বিপ্লব’। দেশে কৃষিকাজের ওপর জোর দেওয়া হয়। ফলন বৃদ্ধি পায়। খাদ্যোৎপাদনে দেশ স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ গঠনের সময় তিনি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে গণভোটের মাধ্যমে সিকিমকে ভারতের একটি রাজ্য হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

নারী পুরুষের সমান শ্রমের বিনিময়ে সমান পারিশ্রমিকের নীতি চালু করেন তিনি।

১৯৭৫ সালের জুন মাসে তিনি দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এর পর ১৯৮৪ সালে পঞ্জাবের অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরে জঙ্গি আক্রমণ ঠেকাতে ‘অপারেশন ব্লু স্টার’-এর নির্দেশ দেন। তার পরই কিছু সংখ্যক পঞ্জাবিভাষীর প্রতিশোধের আগুনে প্রাণ হারান ইন্দিরা গান্ধী। ৩১ অক্টোবর ১৯৮৪ সাল। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে নিজের বাসভবনের সামনের বাগানে তাঁরই বিশ্বস্ত দুই দেহরক্ষীর হাতে খুন হন ইন্দিরা গান্ধী। গোটা দেশে জ্বলে ওঠে বিক্ষোভের আগুন। সেই বিক্ষোভে প্রাণ হারান অসংখ্য পঞ্জাবী মানুষ। তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় রাজঘাটের শক্তিস্থলে।

তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ইন্দিরা গান্ধীর নামে একটি সাম্মানিক ডিগ্রি চালু করেছে। ভারত সরকার তাঁর সম্মানে গরিবদের জন্য  ‘ইন্দিরা আবাস যোজনা’ নামে কম ব্যয়ে বাসস্থান তৈরির প্রকল্প চালু করেছে।

প্রসঙ্গত ইন্ডিয়া টুডের আয়োজিত একটি গণভোটে ইন্দিরা গান্ধী দেশের সব চেয়ে জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তা ছাড়া ১৯৯৯ সালে বিবিসি আয়োজিত গণভোটে তিনি ‘উইম্যান অব দ্য মিলেনিয়াম’ নির্বাচিত হন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here