জাকার্তা: ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সর্বোচ্চ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হয়েও পাকিস্তান নয়, সম্পর্ক মজবুত করতে চায় ভারতের সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সে দেশে সফরের প্রাক্কালে এ রকমই বার্তা দিতে চায় ইন্দোনেশিয়া।

ইকোনমিক টাইম্‌স সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মাসে ভারত সফর শেষ করে পাকিস্তান সফরে গিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকোউই। পাকিস্তানের তরফ থেকে তাঁকে আবেদন করা হয়, তাঁর বার্তায় যেন কাশ্মীর নিয়ে কিছু ‘ভারত বিরোধী’ মন্তব্য থাকে। কিন্তু সে পথে পা বাড়াননি জোকোউই। প্রেসিডেন্টের এই সফরের আগে যখন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী ভারতে এসেছিলেন, পাকিস্তানের তরফ থেকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, তিনি সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করেননি।

এই সব পদক্ষেপ থেকেই মনে করা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া এখন ভারতবান্ধবের বার্তাই দিতে চাইছে। অথচ অতীতে ভারত নয়, পাকিস্তানের সঙ্গেই সখ্যতা বেশি ছিল ইন্দোনেশিয়ার। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাক যুদ্ধের সময়ে, খোলাখুলি পাকিস্তানের সমর্থন করেছিল তারা।

এর পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলিকে নিয়ে তৈরি সংগঠন ‘অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কর্পোরেশন’-এর (ওআইসি) বৈঠকেও বারবার কাশ্মীর প্রসঙ্গে ‘ভারত বিরোধী’ কোনো অবস্থান নিতে অস্বীকার করে আসছে ইন্দোনেশিয়া। যদিও মধ্যে ও পশ্চিম এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার কিছু দেশও এই অবস্থান নিতে অস্বীকার করেছে, তবুও ইন্দোনেশিয়ার এই বার্তা অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করে, কারণ তাদের মুসলিম জনসংখ্যা।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার রাজনীতি নিয়ে ওয়াকিবহাল এমন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়ার মনোভাব ক্রমশ পাল্টাচ্ছে। এখন তারা ভারতকে তাদের অন্যতম মিত্র দেশ বলে মনে করে। ব্যবসায়িক স্বার্থেও ভারতকে বিশেষ কে প্রয়োজন ইন্দোনেশিয়ার। মোদীর ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি ঘোষণার পরে ভারতকে তাই আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরতে চায় ইন্দোনেশিয়া।

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন