নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্নাতক ডিগ্রি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনার নির্দেশ দিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব হারালেন তথ্য কমিশনার এম এস আচারুয়ুলু। মুখ্য তথ্য কমিশনার আর কে মাথুর তাঁকে এইচআরডির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মঞ্জুলা পরাশরকে সেই দায়িত্ব দিয়েছেন।

বিভিন্ন মন্ত্রক সংক্রান্ত নানা তথ্য ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে কিনা তা দেখার দায়িত্বে রয়েছে এই তথ্য কমিশন। মুখ্য তথ্য কমিশনারের নেতৃত্বের রয়েছেন কয়েক জন তথ্য কমিশনার যাঁদের আলাদা আলাদা মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আচারুয়ুলুকে এইচআরডি মন্ত্রকের দায়িত্বে দেওয়া ছিল। কিন্তু কী এমন হল যে তাঁকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল?

এর কারণ, গত বছর ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর স্নাতক ডিগ্রি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রকাশ্যে আনার ব্যাপারে একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে গত বছর কিছু সময়ের জন্য সরগরম ছিল দিল্লির রাজধানী। বিজেপি নেতারা বলেছিলেন, ১৯৭৮-এ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হন মোদী। সেই কথার সমর্থন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তরুণ দাস। কিন্তু গোল বাঁধে নীরজ নামক জনৈক ব্যক্তি তথ্যের অধিকার আইনে প্রধানমন্ত্রীর স্নাতক সংক্রান্ত তথ্য দাবি করায়।

১৯৭৮-এ কত পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিলেন, তাঁদের বাবার নাম, তাঁরা কত নম্বর পেয়েছেন এই সব তথ্য প্রকাশ্যে আনার দাবি জানান ওই ব্যক্তি। সেই দাবি নাকচ করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, “ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়। এই সব তথ্য কখনোই জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।”

এর পরই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয় কমিশন। সেই সঙ্গে তথ্য না দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে পঁচিশ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। কমিশন বলে, “শিক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জনস্বার্থের আওতায় পড়ে।” সেই সঙ্গে নীরজের দাবি মেনে তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেন আচারুয়ুলু। এই নির্দেশ দিয়েই সরকারি কোপে পড়লেন আচারুয়ুলু।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here