ওয়েবডেস্ক :  আর মাত্র কয়েক দিন। তার পরই সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপন হবে। এই বার ৬৮তম সাধারণতন্ত্র দিবস। এই মুহূর্তে আয়োজন তুঙ্গে। ঘটা করে প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হলেও এই দিনটির বিষয়ে কয়েকটি কথা অনেকেই কিন্তু জানেন না। যেমন –

১) ১৯৩০ সাল। স্বাধীনতার আগে ওই বছর ২৬ জানুয়ারি দিনটিতেই পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণা করেছিলেন স্বদেশীরা। তার পর স্বাধীনতার পর ওই দিনটি সাধারণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়।

২) ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি। ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।


৩) ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি আরও একটা কারণেও স্মরণীয়। এ দিন থেকেই আকাশ পথে নিরাপত্তা ও নজরদারিতে ভারতীয় বায়ুসেনা (ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স) দায়িত্ব ভার গ্রহণ করে। আগে এই বায়ুসেনা রয়্যাল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স হিসেবে পরিচিত ছিল।

৪) অনেকেই হয়তো জানেন না, সাধারণতন্ত্র দিবসের এই অনুষ্ঠান চলে তিন দিন ধরে। ২৯ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এই অনুষ্ঠানকে বলা ‘বিটিং রিট্রিটিট অন জানুয়ারি ২৯’। এ দিন দেশের তিনিটি সশস্ত্রবাহিনী এবং আধা সেনাবাহিনী এক সঙ্গে তাদেরই ব্যান্ডের তালে তালে মার্চ করে।

৫) এই দিন গৃহীত হয় সংবিধান। এই সংবিধানটি বিশ্বের দীর্ঘতম সংবিধান। এতে ৪৪৮টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। এতে ১২টি তফসিল, ৯৭টি সংশোধনী রয়েছে। এটি এক দিনে পড়ে শেষ করা যায় না।

৬) ভারতীয় সংবিধানের রচয়িতা হলেন ড. বাবা সাহেব অম্বেদকর। সংবিধান তৈরি করতে তাঁর সময় লেগেছিল দু’ বছর, ১১ মাস। বিভিন্ন দেশের সংবিধানের শ্রেষ্ঠ নীতিগুলি নিয়ে গঠিত এই সংবিধান। যেমন সৌভাতৃত্ব, উদারতা, সাম্যতা এই বিষয়গুলি নেওয়া হয়েছে ফ্রান্সের সংবিধান থেকে। তেমনই পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নীতি নেওয়া হয়েছে ইউনিয়ন অব সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক-এর সংবিধান থেকে। রাজ্য আর কেন্দ্রের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে শাসন চালানোর নীতি নেওয়া হয়েছে কানাডার সংবিধান থেকে ইত্যাদি।

আরও পড়ুন : ২৬ জানুয়ারিতেই কেন পালন করা হয় সাধারণতন্ত্র দিবস? ইতিহাস কী বলছে?

৭) জানেন কি, প্রথমে সংবিধান ছাপার অক্ষরে ছিল না। এটি হিন্দি আর ইংরাজিতে হাতে লেখা ছিল। পার্লামেন্টের গ্রন্থাগারে হিলিয়াম ভরা একটি বাক্সে এটি সংরক্ষণ করে রাখা। এটি হাতে লিখেছিলেন প্রেমবিহারী নারাইন রাইজাদা। গোটাটা লিখতে তাঁর সময় লেগেছিল ছ’ মাস।

৮) এখন যে ভাবে সাধারণতন্ত্র দিবস পালন করা হয় এমনটা শুরু থেকেই ছিল না। এটি শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। সে বারই প্রথম রাজপথে কুচকাওয়াজ হয়। সে বারে প্রধান অতিথি ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর মালিক গুলাম মহম্মদ। তিনিই ছিলেন কুচকাওয়াজের প্রথম প্রধান অতিথি।

৯) এ দিন একটি খ্রিস্টান গান বাজানো হয়। বলা হয় মহাত্মা গান্ধীর খুব প্রিয় একটি গান এটি।

১০) এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় ২১ গান স্যালুট দেওয়া হয়।

১১) এ দিন বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্যপ্রার্থীদের বীর চক্র, মহা বীর চক্র, পরম বীর চক্র, কৃতি চক্র, অশোক চক্র পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। সাহসিকতার স্বীকৃতি স্বরূপ এই পুরস্কার দেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন