Mamata-Banerjee

ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রের নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিয়ে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দিয়েছিলেন একাধিক কর্মসূচিতে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ধরনা মঞ্চে যাওয়া থেকে শুরু করে কেরল-কর্নাটক-অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আগামী লোকসভা নির্বাচনের রণকৌশল নির্মাণে দফায় দফায় আলোচনা ইত্যাদি। কিন্তু এর বাইরেও তাঁর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে কর্মসূচিটি রূপায়িত হয়েছে তা হল, জাতীয় কংগ্রেসের ‘দূত’ আহমেদ পটলের সঙ্গে একান্ত বৈঠক।

দিল্লি গিয়ে বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নেতৃত্বের সঙ্গে মমতার মত-বিনিময়ের খবরে প্রায় চাপা পড়ে গিয়েছিল কংগ্রেস-প্রসঙ্গ। এমনও শোনা গিয়েছে, কংগ্রেসকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন তিনি। যে কারণে শক্তিশালী আঞ্চলিক স্তরের রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে দিনভর দৌড়ে বেড়ালেও সনিয়া গান্ধী বা নিদেনপক্ষে রাহুলের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেননি। যার ফলশ্রুতিতে দিল্লির চাণক্যপুরীর বঙ্গভবনে আহমেদের সঙ্গে তাঁর রুদ্ধদ্বার বৈঠকের বিষয় সংবাদ শিরোনামে উঠে আসার পরেও তাৎক্ষণিক ভাবে ফিকে হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই বৈঠকের গুরুত্ব অনেকটাই সুদূরপ্রসারী, তেমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্তত, দিল্লি থেকে ফিরে এসে মমতার বেশ কয়েকটি বিশেষ পদক্ষেপে তারই ইঙ্গিত স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়েছে।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে সূচ্যগ্র মেদিনী না ছাড়ার মানসিকতা থেকে একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গত ১৯ জুন মমতা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। এমনটাও শোনা যাচ্ছে, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার দিকেই হাঁটছে রাজ্য। হাইকোর্টে চলা ডিএ মামলার শুনানি নির্ধারিত হয়েছিল আগামী ৩ জুলাই। অন্য দিকে মমতার ঘোষণা অনুযায়ী নতুন মহার্ঘ ভাতা চালু হবে ২০১৯-র জানুয়ারিতে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে তার মাস কয়েক পরেই লোকসভা ভোট। এত দিন যেখানে কোষাগারের ভাঁড়ে মা ভবানীর দশার কথা বলে কর্মচারীদের অতিরিক্ত মহার্ঘ ভাতা না দেওয়ার যুক্তি সাজিয়ে এসেছে রাজ্য, আচমকা এমন কী ঘটল? নতুন নিয়ম চালু হলে ওই বিপুল অঙ্কের অর্থের সংস্থান হবে কোথা থেকে? তা হলে কি, কেন্দ্রে নতুন সরকার আসীন হলে নির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দের কথা আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বঙ্গভবনের ওই বিশেষ কথোপকথনে?

২১ জুন তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকেও যেন তেমনই এক অদৃশ্য পরিকল্পনার ছায়ার খেলা! দলীয় সাংগঠনিক ওই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বারবার তুলে ধরেছেন বিজেপীয় অপশাসনের কথা। মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে জনগণের টাকা লুঠ করার অভিযোগ এনেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে। আবার ভোটার তালিকা এবং ইভিএমে জালিয়াতি বা রাজ্যে সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্য কাঠগড়ায় তুলেছেন সেই বিজেপি-কেই। তাঁর আক্রমণের নিশানায় উঠে এসেছে প্রায় ঠান্ডা ঘরে চলে যাওয়া সিপিএম। কিন্তু জাতীয় কংগ্রেস? ঘুরেফিরে আলোচনায় জায়গা করে নিচ্ছে সেই বঙ্গভবনের বন্ধ দরজাই!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here