RBI

ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)-এর সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে সপ্তাহখানেক আগেই। আরবিআইয়ের ডেপুটি গভর্নর বিরল আচার্য মুখ খোলার পরই নাম না করে আরবিআইয়ের উদ্দেশে সতর্কতা বার্তা ছুড়ে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। এর পরই প্রকাশ্যে আসে তিনটি চিঠির প্রসঙ্গ। এবং যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার চূড়ান্ত নমুনা।

গত বুধবার থেকেই আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে আরবিআই অ্যাক্টের ৭ নম্বর ধারা। যে ধারায় বলা রয়েছে, জনস্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকার আরবিআইকে আলোচনা সাপেক্ষ নির্দেশ দিতে পারে। তবে খাতায়-কলমে এই আইন থাকলেও বিগত ৮৩ বছরে এই আইনের প্রয়োগ হয়নি অতীতে। সম্প্রতি, আরবিআইয়ের ফেব্রুয়ারি মাসের একটি নির্দেশিকার বিরোধিতা করে এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা করে ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন। গত আগস্টে ওই মামলার রায়ে হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে আরবিআই আইনের ৭ নম্বর ধারায় ব্যবস্থা নিতে বলে।

সেই নির্দেশ মেনে ১৯৩৪ সালের আইন মোতাবেক আরবিআইকে চিঠি দেয় কেন্দ্র। যেখানে আরবিআই গভর্নরকে কেন্দ্র বলে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্দেশিকার সংস্কার করতে। এর পরই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মূলধনী সঞ্চয় থেকে বাজারে নগদ জোগানের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য গত ১০ অক্টোবর কেন্দ্রের তরফে দাবি তোলা হয়। তৃতীয় চিঠিটি দেওয়া হয় ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের দেওয়া ঋণের উপর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের জারি করা বিধি-নিষেধ পুনর্বিবেচনার জন্য। যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের লক্ষ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ঘাড় থেকে অনাদায়ী ঋণের ভার লাঘব করা, সেখানে কেন্দ্রের এহেন আবেদন চরম পরিপন্থী।

এর পরই শুরু হয়ে যায় কেন্দ্র সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রকাশ্য বাক্‌যুদ্ধ। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে আরবিআই অ্যাক্টের ৭ নম্বর ধারাকে ব্যবহার করে (যা গত ৮৩ বছরে একটি বারের জন্যও হয়নি) কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এমনও বলা হচ্ছে, ওই আইনে স্পষ্টতই জনস্বার্থ শব্দটি উল্লেখ করা থাকলেও ‘কর্পোরেট স্বার্থ’ দেখতে গিয়েই আরবিআইয়ের উপর বোঝা চাপাতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার।

দিল্লিতে গৃহযুদ্ধ, বাংলায় কোমর বেঁধে নেমে পড়ল সিবিআই!

উল্লেখ্য, ব্যাহ্কের কাছে ১,০০,০০০ কোটি টাকার উপর ঋণ রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির। ঋণগ্রহিতা সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে টাটা, এসার বা আদানিদের মতো সংস্থাগুলি। সেখান থেকেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, তা হলে কি জনস্বার্থের ধুয়ো তুলে কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষা করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে মোদী-সরকার?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here