lok sabha elections 2019

ওয়েবডেস্ক: ১৯৯৬ সালের ৩০ মে  কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীপদে ইস্তফা দিয়ে ভারতের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীপদে তাঁর আকস্মিক সেই অভিষেককে অনেকেই তুলনা করেছিলেন খেলার মাঠের ‘কালো ঘোড়া’র দৌড়ের সঙ্গেই।

এ হেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া সম্প্রতি একটি বলিউডি ছবিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে মন্তব্য করেছেন, “আমি এই ‘অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ নিয়ে চর্চা করিনি। তবে আমি নিজেও একজন ‘অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ ছিলাম”। শোনা যাচ্ছে, সেই তিনিই ফের প্রধানমন্ত্রিত্ব আদায়ের যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক কালে তাঁর বেশ কয়েকটি পদক্ষেপে যার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।

কয়েক দিন আগেই জানা গিয়েছে, আগামী ১৯ জানুয়ারি তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশে যোগ দিতে পারেন দেবেগৌড়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা ওই সমাবেশে তাঁর উপস্থিতি বাড়তি মাত্রা যোগ করতে চলেছে বলেই অভিমত রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে। তাদের বক্তব্য, দু’টি কারণে দেবেগৌড়ার উপস্থিতি অর্থবাহী। প্রথমত, নিজের রাজ্যেই নিজের দলের প্রচারে দেবেগৌড়া খুব একটা বাইরে বের হন না। তা সত্ত্বেও তিনি কর্নাটক থেকে বাংলায় আসছেন। দ্বিতীয়ত, ওই সভায় থেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে মহাজোট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগ্রহণে ভূমিকা নিতে পারেন দেবেগৌড়া।

একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের উদ্দেশেও চরম সতর্কতাবার্তা দিয়ে রেখেছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, “আমি কোনো রকমের দুর্নামের ভার নিজের কাঁধে নিতে চাই না। তবে এটা অবশ্যই দেখব কংগ্রেস আমাদের সঙ্গে কতটা সম্মানজনক ব্যবহার করছে”।

আরও পড়ুন: লোকসভা ভোটের আগে আয়করে দ্বিগুণ ছাড় ঘোষণা করতে চলেছেন অরুণ জেটলি!

একই সঙ্গে দেবেগৌড়ার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ২০১৯-এক লোকসভা ভোটের সম্ভাব্য ফলাফলেও ১৯৯৬-এর পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দেখছেন তিনি। যে কারণে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নিয়ে এলেও এখনই সে রাজ্যে জোট ভাঙতে নারাজ দেবেগৌড়া।

একাধিক প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আগামী নির্বাচনে এনডিএ এবং ইউপিএ উভয় বৃহত্তম জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসনের থেকে অনেকটাই দূরে থাকবে। সেই জায়গায় বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলি আনুমানিক ভাবে ১৪০টির মতো আসনে জয়লাভ করতে পারে। ফলে পরিস্থিতিতে যদি অনুকূলে যায়, তা হলে বিজেপিকে ঠেকাতে কংগ্রেসের দরকার হবে ওই সমস্ত আঞ্চলিক দলগুলিকে। সেখানে একাধিক নবীন দাবিদারের দ্বন্দ্বের মাঝে অভিজ্ঞতার নিরিখে অনেকটাই এগিয়ে থাকতে পারেন দেবেগৌড়া। সে দিকে তাকিয়েই তিনি অন্তত পক্ষে আগামী লোকসভা ভোটের ফলাফল পর্যন্ত সবুর করতে চান। কারণ একটাই- দিল্লির মসনদ!

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here