bullett trains

ওয়েবডেস্ক: ভারতে বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে আরও বছর পাঁচেক। ২০২২ সালের আগস্ট মাস থেকে মুম্বই-অমেদাবাদ (দূরত্ব আনুমানিক ৫০৯ কিলোমিটার) পথে তরতরিয়ে চলবে বুলেট ট্রেন। ট্রেনের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার। বৃহস্পতিবার এই বুলেট প্রকল্পেরই যৌথ ভাবে শিলান্যাস করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। কিন্তু আসল প্রশ্নটা হল ইন্টারনেটের ৫ জি গতিকেও যেখানে শ্লথ মনে হয়, সে রকম এক উচ্চ প্রযুক্তির জমানায় ভারতের মতো দেশে ৩২০ কিমি/ঘণ্টার এক বুলেট ট্রেনের তাৎপর্য ঠিক কতটা? চিন, জাপান, ফ্রান্স ইতালির মতো দেশে কিন্তু বেশ কিছু বছর আগে থেকেই নিয়মিত চলাচল করে বুলেট ট্রেন। দক্ষিণ আমেরিকার বহু দেশেও তেমনটাই।

এক নজরে একটু দেখে নেওয়া যাক পৃথিবীর প্রথম সারির বুলেট ট্রেন চলাচলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস :

জাপান

বুলেট ট্রেন প্রযুক্তির পথপ্রদর্শক জাপানই। ১৯৬৪ সালে জাপানে প্রথম চালু হয়েছিল বুলেট ট্রেন। ২০১৫-তে এল আরও উচ্চ প্রযুক্তির ম্যাগ্নেটিক লেভিটেশন। গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০৩ কিমি (দ্রুততম)। আশ্চর্যের বিষয় গত পাঁচ দশকে একটিও দুর্ঘটনা ঘটেনি বুলেট ট্র্যাকে।

চিন

জাপান না হয় প্রযুক্তিতে সব চেয়ে উন্নত। তার থেকে সেরা প্রযুক্তির বুলেট ট্রেন পাওয়াটা বিশ্ববাসীকে তেমন অবাক করে না। কিন্তু তা বলে চিন! দেশটা স্বাধীন হয়েছিল ভারতেরও বছর দেড়েক পর। আর বুলেট ট্রেন চালু করতেও সময় লেগেছিল প্রায় চার দশক। নব্বই-এর দশকে প্রথম এল প্রযুক্তি। সড়গড় হতে সময় লাগল আরও বেশ কিছু বছর। ২০০৭-এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি চিনকে। সারা দেশে ২২০০০ কিলোমিটার পথ জুড়ে ৪৩০ কিমি/ঘণ্টা বেগে নিয়মিত চলাচল করে বুলেট ট্রেন। সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই উচ্চ প্রযুক্তির বিপুল খরচ কিন্তু চিন বহন করেছে একাই, কারোর সাহায্য ছাড়া।

ফ্রান্স, ইতালি

ফ্রান্সে অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে বুলেট ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি। তবে পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে দশ বছর আগেই। তখনই সে বুলেট ছুটিয়েছে ঘণ্টায় ৫৪৭ কিমি বেগে। এই বেগে দেশে ট্রেন ছুটবে বছর কয়েকের মধ্যেই। আর ইতালি? সেখানে তো এখনই বুলেট চলে প্রতি ঘণ্টায় ৩৬০ কিমি বেগে। ২০২২-এ হয়তো আরও দ্রুত হবে তা।

এই অবস্থায় পাঁচ বছর পরে ঘণ্টায় ৩২০ কিমি বেগে ট্রেন চালানো কি খুব অভিনব ব্যাপার। এর ওপর আবার ভারতীয় রেলের যা ট্র্যাক রেকর্ড! এখন সব চেয়ে দ্রুত গতির ট্রেন গতিমান। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিমি। কিন্তু এই সর্বোচ্চ গতিতে ট্রেন চলে কি? রাজধানী, শতাব্দী — সবেরই ক্ষেত্রে এক প্রশ্ন প্রযোজ্য। তা হলে বুলেট যে তার সর্বোচ্চ গতিতে চলবে তারই বা গ্যারান্টি কোথায়?

সৌজন্যে দ্য কুইন্ট

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here