ওয়েবডেস্ক: গত ২১ অক্টোবর দিল্লির লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উপলক্ষ ছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতত্বাধীন আজাদহিন্দ ফৌজের ৭৫তম বর্ষপূর্তি। শুধু মাত্র দেশের স্বাধীনতা দিবসেই লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রথা ভেঙে সে দিনের ওই অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত আখ্যা দিতে ছাড়েনি বিরোধী দলগুলি। এ বার বিজেপির নেতাজি-প্রীতির নতুন পরীক্ষা নিতে চলেছেন সুভাষের পরিবার। সম্প্রতি নেতাজির প্রপৌত্র তথা বর্তমানে বিজেপি নেতা চন্দ্রকুমার বসু দাবি তুলেছেন, দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে নেতাজির স্ট্যাচু স্থাপন করা হোক।

গুজরাতের নর্মদা জেলার সর্দার সরোবরের কাছে সর্দার বল্লভভাই পটেলের ১৮২ মিটারের স্ট্যাচু স্থাপনের পরই নেতাজির স্ট্যাচু নিয়ে সরব হয়েছেন তাঁর উত্তরসূরিরা। গত ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত দিয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্ট্যাচুর উদ্বোধন করা হয়। ৩০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওই স্ট্যাচুর পোশাকি নাম ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’। এর পরই চন্দ্রকুমার বসু দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতোই সর্দার বল্লভভাই পটেলের ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’র উদ্বোধন করেছেন। ওই দিনটিকে ‘ইউনিটি ডে’ হিসাবে ঘোষণা করছেন। এ বার দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে নেতাজির স্ট্যাচু স্থাপন করা হোক। ২৩ জানুয়ারি দিনটিকে ‘লিবারেশন ডে’ হিসাবে ঘোষণা করা হোক।

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সহ-সভাপতি চন্দ্রবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (আইএনএ)-র একাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তি এই দাবি তুলেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর আজাদহিন্দের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নেপথ্যেও ছিল চন্দ্রবাবুর ভূমিকা। তিনিই মোদীকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই তিনিই প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে নেতাজির স্ট্যাচু স্থাপনের প্রস্তাব পেশ করলেন। এখন দেখার, ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে আগামী ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিনে স্ট্যাচু স্থাপনের বিষয়ে মোদীর মুখ থেকে কোনো আশ্বাস মেলে কি না!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here