ওয়েবডেস্ক: বুধবার কর্নাটকে কুমারস্বামীর শপথগ্রহণ উপলক্ষ্যে বিরোধী জোটের রথী-মহারথীদের ভিড় জমানো- এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয়। কিন্তু তার পাশাপাশি সোশাল মিডিয়া জুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে অন্য একটি বিষয়ে। তা হল, লোকসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট ক্ষমতায় এলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল বিজেপি একাই। মোট ২৮২টি আসন পেয়েছিল তাঁরা। তারপর চার বছরে দেশে অনেকগুলি উপনির্বাচনে হয়েছে, তারমধ্যে কয়েকটিতে বিজেপি জিতলেও হেরেছে ৬টি আসনে। তার ওপর সম্প্রতি কর্নাটকের বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ায় লোকসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন বিজেপি-র ইয়েদিয়ুরাপ্পা ও শ্রীরামুলু। সব মিলিয়ে লোকসভায় বিজেপির বর্তমান সাংসদ সংখ্যা ২৭২। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় ২৭২ আসন থাকলে এমনিতে সমস্যার কিছু নেই। বরং সেটাই ম্যাজিক ফিগার। তাহলে হঠাৎ বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে চর্চা কেন শুরু হয়েছে?

তার কারণ আগামী ২৮ মে দেশের চারটি লোকসভায় উপনির্বাচন। সবকটিতেই বিজেপির জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে কঠিন লড়াই।

উত্তরপ্রদেশের কইরানা আসনে বিজেপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে এসপি-বিএসপি-কংগ্রেস-নিষাদ পার্টি সর্বসম্মত প্রার্থী দিয়েছে। তিনি লড়ছেন রাষ্ট্রীয় লোক দলের প্রতীকে। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের পালাঘার আসনে বিজেপির বহুদিনের জোটসঙ্গী শিবসেনা আলাদা লড়ছে। এছাড়া সেখানে রয়েছে কংগ্রেস। ওই আসনে সিপিএমেরও বেশ বড়ো পরিমাণ ভোট রয়েছে। ফলে সেখানে লড়াই চতুর্মুখী। শিবসেনা আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় যথেষ্ট চিন্তায় বিজেপি। ওই রাজ্যেরই ভান্ডারা-গোন্ডিয়া আসনে বিজেপির বিরুদ্ধে শরদ পাওয়ারের এনসিপি-কে সমর্থন করছে কংগ্রেস। তার ওপর এই আসনটিতে উপনির্বাচন কারণটিও অস্বস্তিতে রেখেছে বিজেপিকে। এখানকার বিজেপি সাংসদ, কৃষকদের মৃত্যু ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো পদক্ষেপ করছে না- এই অভিযোগে জানুয়ারিতে সাংসদ পদ ত্যাগ করেন।

এছাড়া নাগাল্যান্ডের একমাত্র আসনেও এবার উপনির্বাচন। ওই কেন্দ্রের এনডিপিপি সাংসদ নেইফিউ রিও এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাই সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। সেখানে নাগাল্যান্ড পিপলস পার্টিকে সমর্থন করেছে কংগ্রেস।

অর্থাৎ চারটি আসনের কোনোটিতেই ভালো অবস্থায় নেই বিজেপি। ২৭২-এর পর যদি আরও আসন কমে, তাহলে চিন্তার ব্যাপার বৈকি! কর্নাটকের দুটি আসনে উপনির্বাচন হতে এখনও দেরি আছে।

তবে বিজেপির পক্ষে খুশির খবর একটাই। তাঁদের তিন জোটসঙ্গী- এলজেপি, জেডিইউ এবং শিরোমণি অকালি দলের মিলিত সাংসদ সংখ্যা ১২। তাই বিজেপি লোকসভায় সংখ্যালঘু হয়ে গেলেও এনডিএ সরকার সহজে পড়বে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here