নয়াদিল্লি : এই প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মানববাহী রকেট পরীক্ষামূলক ভাবে উৎক্ষেপণ করতে চলেছে ইসরো। নাম জিএসএলভি এমকে-৩, অর্থাৎ জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যাল মার্ক-৩। পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হবে ৫ জুন। সংস্থার চেয়ারম্যান এ এস কিরণ কুমার জানান, এর পর আরও ছয় বার পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে দেখা হবে এই রকেট। যদি সফল হয় তা হলে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর ক্ষেত্রে এটাই হবে দেশের মধ্যে প্রথম মানববাহী মহাকাশ যান। সে ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, এটি সফল হলে ‘ভারতের মাটি থেকে মহাকাশে ভারতীয়রা’ এই ব্যাপারটা প্রথম বার করা সম্ভব হবে। এটি দেশীয় প্রযুক্তিতে বানানো বৃহত্তম মহাকাশ যান।

এই মহাকাশ যানটির ওজন ২০০ টি পূর্ণ বয়স্ক এশীয় হাতির সমান। এটি রাখা হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরকোটায় রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে। এখনও পর্যন্ত ভারতের তৈরি সব থেকে ভারী মহাকাশ যান এটি। সব থেকে ওজনবহুল উপগ্রহ বহনের ক্ষমতা সম্পন্ন। পৃথিবীর কক্ষপথে ৮ টন ওজন বহন করার ক্ষমতা রয়েছে মহাকাশ যানটির। স্বাভাবিক ভাবেই মানুষবহনেও সক্ষম। ভারতের এই বৃহত্তম মহাকাশ যানটির উচ্চতা ৪৩ মিটার। কিন্তু ওজনে দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাকাশ যান জিএসএলভি এমকে-২-এর দেড় গুণ ভারী, আর মহাকাশ যান পিএসএলভি-র থেকে দ্বিগুণ ভারী। এটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা।

এ এস কিরণ কুমার জানান, কেন্দ্র সরকার এই প্রকল্পের জন্য ৪০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করলেই ২ থেকে ৩ জন মহাকাশচারী পাঠানোর বিষয়টি পাকা করবে সংস্থা। মানুষবহনের ক্ষেত্রে এটি ভারতের মধ্যে প্রথম হলেও এর আগে বিশ্বে তিনটি দেশ এই জাতীয় মহাকাশ যান তৈরি করে ফেলেছে। তার মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য এর আগে ২০১৪ সালেই এই মহাকাশ যানটি বায়ুমণ্ডলে কী ধরনের আচরণ করে তা দেখার জন্য একটি পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষাটিও সফল হয়েছিল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here