ওয়াশিংটন: দুই রাষ্ট্রপ্রধান মিলিত হলেন নৈশভোজে, সেখানে তো কথা হলই। তার আগে দুই নেতা ঘণ্টা চারেক কথা বললেন। প্রথমে দু’ জনে একান্তে, পরে সাঙ্গোপাঙ্গকে নিয়ে। সব মিলিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা কথা হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে, যার মূল বিষয় ছিল  বাণিজ্য, সন্ত্রাসবাদ আর শক্তি। ‘ভারত সত্যিই বন্ধু’ – এ কথা বলে হোয়াইট হাউসে মোদীকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প। আলোচনার পর রোজ গার্ডেনে দুই প্রধান যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করলেন। তবে যৌথ বিবৃতিতে এইচ ওয়ান-বি ভিসা নিয়ে কোনো উল্লেখ নেই। আর যেমনটি আগে থেকে ঠিক ছিল, সেটাই হল। সাংবাদিকদের কাছে কোনো ব্রিফিং হল না।

সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হোয়াইট হাউসে পৌঁছোনোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে প্রথমে একান্তে ২০ মিনিট কথা বলেন। তার পর দু’ দেশের প্রতিনিধিদল আলোচনায় যোগ দেন। রোজ গার্ডেনে প্রকাশিত হয় যৌথ বিবৃতি। এর পর ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের আমন্ত্রণে আধ ঘণ্টার ‘ককটেল ব্রেক’-এ যোগ দেন সবাই। তার পর কোনো বিদেশি অতিথির সম্মানে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে প্রথম ‘ওয়ার্কিং ডিনার’। দেখতে দেখতে কেটে গেল প্রায় পাঁচ ঘণ্টা।

কী কথা হল দুই প্রধানের মধ্যে?

আলোচনার মূল বিষয় ছিল বাণিজ্য ও সন্ত্রাসবাদ। এর বাইরেও অন্য বিষয় ছিল। যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে, তা থেকে জানা যাচ্ছে, শক্তি বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির কোনো স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলেও, পরিবেশ ও জলবায়ু নীতিতে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এবং শক্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে দুই নেতা বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের ডাক দিয়েছেন। ভারতের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় সেই এইচ ওয়ান-বি ভিসা নিয়ে অবশ্য যৌথ বিবৃতিতে কোনো উল্লেখ নেই।

সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে দুই দেশ আবার দাবি করেছে, জঙ্গিদের আশ্রয় দিতে এবং উপমহাদেশীয় অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালাতে পাকিস্তানের মাটি যেন ব্যবহার করা না হয়। সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে বলা হয়েছে, “দু’টি দেশই সন্ত্রাসবাদের কুকর্মে আক্রান্ত এবং এ সবের পিছনে যে সব সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও তাদের গোঁড়া আদর্শ কাজ করে, তাদের নির্মূল করতে দু’টি দেশ বদ্ধপরিকর।” অন্য দিকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা ফের জানিয়েছেন মোদী।

যৌথ বিবৃতিতে দুই রাষ্ট্র সীমান্ত-পার সন্ত্রাসের সুনির্দিষ্ট দৃষ্টান্তের উল্লেখ করেছে। ২৬/১১-এর মুম্বই, পাঠানকোট ইত্যাদি সীমান্ত-পার সন্ত্রাসের চক্রীদের বিচার করার জন্য পাকিস্তানের কাছে আহ্বান জানিয়েছে তারা।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে, এই আশা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি চান দু’ দেশের বাণিজ্য-সম্পর্ক ‘ন্যায়সঙ্গত হোক এবং পারস্পরিক সুযোগসুবিধা ভিত্তিক’ হোক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আপনাদের বাজারে মার্কিন পণ্য ঢোকার ব্যাপারে যে সব বাধা আছে, তা দূর হওয়া যেমন দরকার, তেমনই আমাদেরও উচিত আপনাদের দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো।” দুই দেশ কর সংস্কারের যে অভিযান শুরু করেছে, তা প্রচুর অর্থনৈতিক সুবিধার পথ খুলে দেবে বলে দুই নেতাই আশা প্রকাশ করেছেন।

ভারত-মার্কিন পরমাণু সম্পর্ক

ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন (এনপিসিআই) এবং আমেরিকার ওয়েস্টিংহাউস ইলেকট্রিক কোম্পানির মধ্যে চুক্তির প্রসঙ্গটি ওঠে দুই নেতার আলোচনায়। ভারতে ছ’টি পরমাণু চুল্লি এবং প্রকল্পে অর্থ সাহায্য দেওয়া চুক্তিটি শীঘ্রই চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ট্রাম্প ও মোদী। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, দুই দেশ শক্তি-সম্পর্ক আরও জোরদার করবে। কার্যকর জীবাশ্ম জ্বালানি প্রযুক্তি, স্মার্ট গ্রিড এবং শক্তি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়াবে তারা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন