খবরঅনলাইন ডেস্ক: দেশে করোনাভাইরাস (coronavirus) ছড়িয়ে পড়ার কিছু দিনের মধ্যেই তৈরি হয়েছে আরোগ্য সেতু অ্যাপ (Aarogya Setu App)। আপনার আশেপাশে কোনো কোভিড ১৯ (Covid 19) আক্রান্ত ব্যক্তি আছেন কিনা তা জানার প্রশস্ত মাধ্যম ওই অ্যাপ। সরকারের তরফ থেকে আরোগ্য সেতু অ্যাপ ডাউনলোড করার জন্য বার বার বলা হয়েছে। কিন্তু ওই অ্যাপ কে বানিয়েছে তা নিয়ে তোলপাড় কাণ্ড। শেষ পর্যন্ত বুধবার কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (IT Ministry) জানায়, শিল্প ও শিক্ষা মহলের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় ওই অ্যাপ বানিয়েছে ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার (এনআইসি, National Informatics Centre, NIC)। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের (সিআইসি, Central Information Commission, CIC) আদেশ মানতে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে।

সমাজকর্মী সৌরভ দাস তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই, RTI) মোতাবেক এক আবেদনে আরোগ্য সেতু অ্যাপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান – কে এই অ্যাপ বানানোর প্রস্তাব দিল, কী করে সেই প্রস্তাব অনুমোদিত হল, এই অ্যাপ বানানোর সঙ্গে কোন কোম্পানি, ব্যক্তিবিশেষ এবং সরকারের দফতর জড়িত ইত্যাদি। এই অ্যাপ বানানোর কাজে যুক্ত বিভিন্ন বেসরকারি ব্যক্তির মধ্যে যে সব মেল চালাচালি হয়েছিল, তার কপি চান সৌরভবাবু।

Loading videos...

গত দু’ মাস ধরে অ্যাপ সংক্রান্ত এই সব প্রশ্ন সরকারের বিভিন্ন দফতরের মধ্যে ঘুরতে থাকে। জানা গিয়েছে, সৌরভবাবুর প্রশ্ন সম্পর্কে এনআইসি বলে, “অ্যাপ তৈরি সংক্রান্ত গোটা ফাইলটা এনআইসি-র কাছে নেই।” তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সৌরভবাবুর প্রশ্ন ন্যাশনাল ই-গভর্ন্যান্স ডিভিশনের (National e-Governance Division, NeGD) কাছে পাঠায়। তারা জানায়, “যে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে তার সঙ্গে আমাদের ডিভিশনের কোনো সম্পর্ক নেই।”

তাঁর প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো উত্তর না পেয়ে সৌরভবাবু কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের দ্বারস্থ হন। আরটিআই আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারের জবাব ‘অযৌক্তিক’, এই মন্তব্য করে সিআইসি এনআইসি-র কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ (show cause notice) পাঠায়।

‘আপাতদৃষ্টিতে তথ্যে বাধাদান এবং এড়িয়ে যাওয়া জবাব দেওয়ার জন্য’ আরটিআই আইন অনুসারে কেন শাস্তি দেওয়া হবে না, তার কারণ দর্শাতে বলা হয় সিআইসি-র নোটিশে।  

আরোগ্য সেতুর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এই অ্যাপ প্রস্তুত করেছে। কিন্তু সিআইসি বলেছে, আরোগ্য সেতু সংক্রান্ত একটি আরটিআই আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতর তাদের উত্তরে প্রসঙ্গটি ‘কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন’।

সিআইসি-র নোটিশের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “সিআইসি-র আদেশ মোতাবেক ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (মাইটি, MeitY), ন্যাশনাল ই-গভর্ন্যান্স ডিভিশন এবং এনআইসি-র কেন্দ্রীয় সরকারি তথ্য অফিসারদের (সিপিআইও, CPIO) ২০২০-এর ২৪ নভেম্বর হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সিআইসি-র আদেশ মানতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে মাইটি।”

এক নির্দেশ জারি করে তথ্য কমিশনার বনজ এন সর্ন বলেন, অ্যাপের ওয়েবসাইটেই বলা আছে অ্যাপের মধ্যে যে বিষয়াদি আছে তার স্বত্বাধিকারী মাইগভ (MyGov) ও মাইটি (MeitY), এরাই এর পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে এবং রক্ষণাবেক্ষণও করে। কেন এই প্রয়োজনীয় তথ্য তাঁদের কাছে নেই তা ব্যাখ্যা করার জন্য মন্ত্রকের সিপিআইও-দের নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য কমিশনার।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “এটা পরিষ্কার করে জানানো হচ্ছে যে আরোগ্য সেতু অ্যাপ সম্পর্কে এবং ভারতে কোভিড ১৯ অতিমারি ঠেকানোয় সাহায্য করার কাজে এর ভূমিকা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।”

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ২০২০-এর ২ এপ্রিলের ঘোষণামতো কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে ভারত সরকার আরোগ্য সেতু অ্যাপের সূচনা করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “…এ ধরনের সমস্ত ক্ষেত্রেই পরিষ্কার করে উল্লেখ করা হয়েছে যে শিল্প ও শিক্ষা মহলের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় আরোগ্য সেতু অ্যাপ তৈরি করেছে এনআইসি।”

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

রাজ্যে আরও কমল নতুন সংক্রমণ, ছাপিয়ে গেল সুস্থতা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.