এটিএম পরিষেবা স্বাভাবিক হতে ২-৩ সপ্তাহ সময় লাগবে, বললেন জেটলি

0

কেন্দ্রীয় সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্ভোগ আর বিভ্রান্তি অব্যাহত। ব্যাঙ্ক, এটিএম সবার সামনেই দীর্ঘ লাইন। গ্রাহকদের পরিষেবা দিতে ব্যাঙ্কগুলি সফল হলেও, ব্যর্থ হচ্ছে এটিএমগুলি। দেশের বেশিরভাগ এটিএমেই এখনও পর্যন্ত এসে পৌঁছোয়নি নতুন ২০০০ বা পাঁচশো টাকার নোট। শুধুমাত্র ১০০ টাকার নোটের ভরসাতেই থাকতে হচ্ছে এটিএমগুলিকে। সেই জন্য খুব তাড়াতাড়িই নোট ফুরিয়ে যাচ্ছে এটিএমগুলি থেকে। তাই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও বেশিরভাগ সময়ই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে মানুষকে।

এটিএম পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানালেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে সাধারণ মানুষকে আরও একটু ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। তবে টাকার যে কোনো অভাব হবে না তা জানিয়ে জেটলি বলেন, “মোট প্রায় ১৪ লক্ষ কোটি টাকা বদল হচ্ছে। আমরা জানতাম রাতারাতি সব কিছু বদল হবে না। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট টাকা রয়েছে। এটা একটি বিশাল অপারেশন। সবার সহযোগিতা কাম্য।”

তবে এই নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত যদি আগে থেকেই হয়ে থাকে তাহলে এটিএমগুলিকে তার উপযোগী করে তোলা হল না কেন? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সিদ্ধান্ত আগে নেওয়া হলেও, ঘোষণার আগে এইসব কাজ করা যেত না। কারণ সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব থাকব। তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ারও একটা সম্ভাবনা ছিল।”

জেটলি আরও বলেন, এখনও পর্যন্ত স্টেট ব্যাঙ্ক আর তার সহযোগী ব্যাঙ্কগুলিতে মোট ৫৪, ৩৭০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে শুধু জমা পড়েছে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এখনও পর্যন্ত ৫৮ লক্ষ গ্রাহকের টাকা বদল করেছে স্টেট ব্যাঙ্ক। প্রায় ৩৩ লক্ষ গ্রাহক টাকা তুলেছেন।

এর পাশাপাশি বিরোধীদেরও এক হাত নিতে ছাড়েননি জেটলি। তাঁর কথায়, “নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে অনেক রকম রাজনৈতিক মতামত আসছে। অনেক মতামতই খুব দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে করা হচ্ছে। রাজনীতিকে পরিষ্কার করার এই উদ্দেশ্য অনেকেরই সহ্য হচ্ছে না।”

জেটলি এদিন আরও বলেন, শুধুমাত্র তাদেরই চিন্তা করতে হবে যাদের জমানো টাকা আইনসিদ্ধ নয়। পাশাপাশি নুনের আকালের যে খবর ছড়িয়েছে সেটা ভিত্তিহীন গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.