স্ত্রী ফিনির সঙ্গে।

তিরুঅনন্তপুরম: আত্মীয়স্বজনদের অভিযোগ, মৃত জওয়ানের পায়ে মারধরের দাগ আছে, রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্ন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে মহারাষ্ট্রের দেওলালি ক্যান্টনমেন্টে রহস্যজনক ভাবে মৃত জওয়ান রয় ম্যাথুর দেহের আবার ময়নাতদন্ত হল। এক সংবাদমাধ্যমের ‘স্টিং অপারেশন’-এ অংশ নেওয়ার পর ওই জওয়ানের মৃতদেহ মেলে।

ব্রিটিশ যুগ থেকে চলে আসা প্রথায় সেনা অফিসারদের ভৃত্যের কাজ করতে হয় জওয়ানদের। কখনও তাঁদের কুকুরদের ঘুরিয়ে আনা, কখনও তাঁদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে দিয়ে আসা, স্কুল থেকে নিয়ে আসা, এই সব কাজ করতে হত। এই ব্যাপারগুলি দেখিয়ে একটি স্টিং অপারেশন করে একটি সংবাদমাধ্যম। ওই ভিডিওতে ম্যাথু ছিলেন।

শনিবার সকালে ম্যাথুর দেহ তিরুঅনন্তপুরমে এসে পৌছোনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শুরু হয়। মৃত জওয়ানের স্ত্রী ফিনি-র অভিযোগের ভিত্তিতে এই ময়নাতদন্ত করা হয়।

কোল্লম জেলার এড়ুকোনের কারুভেলিল গ্রামের বাসিন্দা রয় ম্যাথুর দেহ গত বৃহস্পতিবার দেওলালি ক্যান্টনমেন্টের একটি পরিত্যক্ত ব্যারাকে সিলিং থেকে ঝুলতে দেখা যায়। স্ত্রী ফিনি-সহ আত্মীয়দের অভিযোগ, ম্যাথুর দেহে প্রহারের দাগ ছিল, দেহের বিভিন্ন জায়গায় রক্ত জমে ছিল। কেরলে নতুন করে ময়নাতদন্ত করা না হলে তাঁরা ম্যাথুর দেহ গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন।

তাঁর স্বামীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে ফিনি কোল্লমের জেলা কালেক্টরের দ্বারস্থ হন এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন বলে এসপি (কোল্লম রুরাল) এস সুরেন্দ্রন পিটিআইকে জানান। তাঁর অভিযোগ পাওয়ার পরেই ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তে রেভিনিউ ডিভিশনাল অফিসার উপস্থিত ছিলেন।

আত্মীয়দের আরও অভিযোগ, ম্যাথুর দেহ বিমানবন্দরে আসার পর সেনাবাহিনীর তরফ থেকে এতটুকু শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা করা হয়নি। মৃতদেহ আধ ঘণ্টা একটা ট্রলিতে পড়েছিল। কেউ আশেপাশে ছিলেন না। স্ত্রী ফিনি বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমি ন্যায়বিচার চাই। আমি জানতে চাই কী করে এই ঘটনা ঘটল।” 

সেনাঅফিসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ভিডিওতে ম্যাথুকে বোঝা যায়নি কারণ তাঁর মুখ ঢাকা ছিল। তবে স্টিংটি প্রকাশ্যে আসার পর অফিসারদের ‘সরি’ লিখে একটি এসএমএস করেছিলেন তিনি। তবে ভিডিওটির ব্যাপারে ম্যাথুকে কোনোরকম হেনস্থার কথা অস্বীকার করেছে সেনা।      

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন