up deputy chief minister dinesh sharma

ওয়েবডেস্ক: বিজেপি দলে উলটোপালটা আলটপকা মন্তব্য করার লোকের  যে অভাব নেই, তার প্রমাণ প্রতিনিয়ত মিলছে। এই তালিকায় এ বার নাম লেখালেন উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দীনেশ শর্মা।

কিছু দিন আগে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বলেছিলেন হাজার হাজার বছর আগে এই ভারতেই ইন্টারনেট ও উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল। কার্যত বিপ্লববাবুর বক্তব্য সমর্থন করে দীনেশবাবু বলেছেন, সাংবাদিকতার সূত্রপাত সেই মহাভারতের আমলেই। তিনি তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে ওই মহাকাব্য থেকে নানা উদাহরণ দেন।

‘হিন্দি সাংবাদিকতা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দীনেশবাবু বলেন, কুরুক্ষেত্র রণাঙ্গনে কী ঘটছে তা হস্তিনাপুরে বসে ধৃতরাষ্ট্রকে অবহিত করেছিলেন তাঁর রথের চালক সঞ্জয়। “ইয়ে লাইভ টেলিকাস্ট নহি তো অওর ক্যয়া হ্যায় (এটা যদি টেলি সম্প্রচার না হয় তো আর কী?)”

বিপ্লব দেবও বলেছিলেন, সঞ্জয়ের চোখ দিয়ে তিনি কী করে দেখলেন? “সেই সময় প্রযুক্তির ব্যবস্থা ছিল।” এর আগে ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায়ও প্রাচীন ভারতে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির কথা বলতে গিয়ে ‘দিব্যদৃষ্টি’, ‘পুষ্পক রথ’ ইত্যাদির উদাহরণ দিয়েছিলেন।

দীনেশবাবুর বক্তব্য অবশ্য ওখানেই শেষ হয়নি। উনি পৌরাণিক দেবতা নারদ মুনিকে গুগলের সমকক্ষ হিসাবে দেখেছেন। বলেছেন, “আপনাদের গুগল তো ইদানীং শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের গুগল শুরু হয়েছিল অনেক কাল আগে। নারদ মুনি ছিলেন তথ্যের আকর। তিনি তিন বার ‘নারায়ণ’ বলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা চলে গিয়ে বার্তা পৌঁছে দিতেন।” এই বলে নিজেদের মহান অতীত ও ইতিহাস স্মরণ রাখার আবেদন জানান মন্ত্রী।  এর আগে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানিও নারদকে গুগলের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, ছানি কাটা, প্লাস্টিক সার্জারি, মহাকর্ষ তত্ত্ব, ইন্টারনেট, পরমাণু পরীক্ষা ইত্যাদি সবই চালু হয়েছিল প্রাচীন ভারতে। গত নভেম্বরে মোদী মন্ত্রিসভার শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সত্যপাল সিং বলেছিলেন, আইজ্যাক নিউটন আবিষ্কার করার আগেই হিন্দু শাস্ত্রের কিছু মন্ত্রে গতি সূত্র বিধৃত করা আছে। গত বছর ওই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছিলেন রাইট বাদার্স নন, ফ্লাইং মেশিন প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন শিবকর বাপুজি তালপাড়ে।

ভারতের অগ্রণী ইতিহাস সংগঠনের প্রধান ওয়াই সুদর্শন রাওয়ের মতে, ভারত ৫ হাজার বছর আগেই বিমান ওড়াত, স্টেম সেল নিয়ে গবেষণা করত, মহাজাগতিক অস্ত্র ব্যবহার করত। ২০১৪ সালে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, প্লাস্টিক সার্জারির উদাহরণ গণেশ। এক বছর মোদী ফের সরব হন। বলেন, মহাভারতের কর্ণের জন্ম প্রমাণ করে তখনকার ভারতীয়রা জেনেটিক সায়েন্স সম্পর্কে অবহিত ছিল।

তবে এ ধরনের মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যেতেই মোদী দলের সকলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, সংবাদ মাধ্যমের ‘মশলা’ হতে পারে, এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে তাঁরা যেন বিরত থাকেন। মোদীর সতর্কতায় যে কোনো কাজ হয়নি তার প্রমাণ বিপ্লব দেব, দীনেশ শর্মারা।

কিন্তু প্রশ্ন হল, দলের শীর্ষ নেতা সতর্ক করার পরেও এ ধরনের উলটোপালটা মন্তব্য থেকে বিজেপি নেতারা বিরত থাকেন না কেন? তা হলে কি ধরে নিতে হয়, এ ধরনের মন্তব্য করার পেছনে তাঁর প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে?

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here