নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৭ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে খুন করে ছত্তীসগঢ় পুলিশ বলেছিল, ‘মাওবাদী মরেছে’: তদন্ত রিপোর্ট

0

বিজাপুর: ছত্তীসগঢ পুলিশ ২০১২ সালের ২৮ জুন বিজাপুর জেলার সারকেগুড়ায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৭ জনকে খুন করেছিল। ওই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে সারা দেশ। পুলিশি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, সে দিনের গুলিচালনায় ১৭ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়। কিন্তু এই ঘটনার তদন্তে গঠিত বিচার বিভাগীয় কমিশনের রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

বিচারপতি বিজয়কুমার আগরওয়ালের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, পুলিশ মাওবাদী নির্মূল করার দাবি করলেও ওই ঘটনায় কোনো মাওবাদীর মৃত্যু হয়নি। পুলিশের নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় ১৭ জন নিরীহ গ্রামবাসীর মৃত্য়ু হয়েছিল। আর আশ্চর্যজনক বিষয়, এই মামলার শুনানি ও তদন্তের সাত বছর পর একমাস আগে ওই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল। গত রবিবার তা ফাঁস হয়েছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের গুলিতে ওই দিনের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা মাওবাদী নয়। প্রত্যেকেই নিরীহ গ্রামবাসী। গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে গুলি চালনায় প্ররোচনা জোগানোর মতো কোনো কারণও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, পুলিশ দাবি করেছিল গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে গুলি চালানো হয়। কিন্তু পুলিশের ওই দাবি ভুল ছিল। কারণ, পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর কোনো প্রমাণ বাহিনী দিতে পারেনি। এমনকী ঘটনাস্থল থেকে বন্দুক ও পেলেট সংগ্রহ করার পুলিশি দাবিও প্রত্যাখ্যান করা হয়।

সারকেগুড়া গ্রামে ১৭ জনের খুনের ঘটনায় দেশজোড়া প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ার পরে তৎকালীন বিজেপি সরকার এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। বিচারপতি আগরওয়াল অবসর গ্রহণের আগে গত ১৭ অক্টোবর ওই প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেন এবং শনিবার গভীর রাতে এটি ছত্তীসগঢ়ের মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত হয়। সোমবার যা বিধানসভায় উপস্থাপিত হয়। তার পরেই বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলগুলি রাজনৈতিক আক্রমণে অবতীর্ণ হয়।

[ আরও পড়ুন: অযোধ্যা মামলা থেকে সরানো হল মুসলিম দলগুলির আইনজীবী রাজীব ধাওয়ানকে ]

নিহত গ্রামবাসীদের পরিবারের পক্ষে আদালতে সওয়ালকারী আইনজীবী ইশা খাণ্ডেলওয়াল বলেছেন, “এটা ছিল ন্যায়বিচারের জন্য গ্রামবাসীর লড়াই। শেষ পর্যন্ত সেই ন্যায়বিচারের অনেকটাই কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছি বলে মনে হচ্ছে”। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রতিবেদনটি দেখলেও সরকারি ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুলিপি তাঁর বা গ্রামবাসীর হাতে দেওয়া হয়নি বলেই দাবি ইশার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.