aadhar rachna khayra

ওয়েবডেস্ক: আধার কার্ড ইস্যু করেন যাঁরা, তাঁদের কাছে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের ব্যাক্তিগত গোপনীয় তথ্যাদি কী ভাবে যে কেউ জেনে যেতে পারেন, তা নিয়ে খবর করার জন্য ‘দ্য ট্রিবিউন’ পত্রিকার সাংবাদিক রচনা খয়রার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে আধার কর্তৃপক্ষ ইউআইডিএআই। এই এফআইআরে আদৌ বিচলিত নন রচনা। বরং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সবে একটুখানি খবরই ফাঁস করেছেন তিনি। আরও অনেক বাকি আছে।

এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রচনা বলেন, “সবে তো একটুখানি খবরই ফাঁস করা হয়েছে। আমাদের তদন্ত শেষ হচ্ছে। কিছু দিনের মধ্যেই পুরো খবর ফাঁস করা হবে। ইউআইডিএআই যত তাড়াতাড়ি এই খবরের গুরুত্ব বুঝবে ততই মঙ্গল।”

তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার জন্য ইউআইডিএআইকে ধন্যবাদই দিয়েছেন এই সাংবাদিক। তিনি বলেন, “আমি মনে করি এফআইআরটি আমার প্রাপ্য ছিল। ইউআইডিএআই কিছু পদক্ষেপ তো করল। আমি আশা করব এই এফআইআরের পাশাপাশি ভারত সরকার কিছু পদক্ষেপ করুক যাতে এই ধরনের তথ্য ফাঁস ভবিষ্যতে আর না হয়।”

রচনার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে চণ্ডীগড় ও দিল্লির সাংবাদিককুল-সহ সমগ্র দেশের সাংবাদিক মহল। প্রতিবাদ করেছে আন্তর্জাতিক মহলও। এই জন্যও সবাইকে ধন্যবাদ দিয়েছেন রচনা। তিনি বলেন, “যে ভাবে আমি সমর্থন পাচ্ছি তাতে অভিভূত। আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য ট্রিবিউনকেও অনেক ধন্যবাদ।”

উল্লেখ্য, এই ঘটনার বিরুদ্ধে বিবৃতি প্রকাশ করে ট্রিবিউন জানিয়েছে, “আমাদের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যে ভাবে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তার জন্য আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমাদের সাংবাদিককে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্য যাবতীয় আইনানুগ ব্যবস্থা আমরা নেব।”

উল্লেখ্য, রচনার ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, আধার কার্ড ইস্যুর জন্য ইউআইডিএআই কর্তৃপক্ষের কাছে জমা রাখা কয়েক জন নাগরিকের টেলিফোন নম্বর ও ঠিকানা-সহ বহু ব্যাক্তিগত গোপনীয় তথ্যাদি মাত্র পাঁচশো টাকায় কিনেছিলেন তিনি। কী ভাবে সেই সব ব্যাক্তিগত গোপনীয় তথ্যে উঁকি মারা যায়, ওই সাংবাদিককে তার উপায়ও বাতলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানায় ওই রিপোর্টটি।

এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেই রচনার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে ইউআইডিএআই কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here