নয়াদিল্লি : কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি চিন্নাস্বামী স্বামীনাথন কারনানের কারাবাসের আদেশ প্রত্যাহার করার আবেদন বিবেচনা করে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি কারনানের তরফ থেকে বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের কাছে তাঁর ছ’ মাসের কারাবাসের আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদন বিবেচনা করে দেখা হবে বলে জানাল প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরের বেঞ্চ।

আরও পড়ুন : কে চিন্নাস্বামী স্বামীনাথন কারনান?

গত ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লেখেন বিচারপতি কারনান। চিঠির বিষয় ছিল ‘বিচার ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতি’। সেই চিঠিতে ২০ জন ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বিচারপতির একটি ‘প্রাথমিক তালিকা’ দেন কারনান। সেই তালিকায় ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাইকোর্টের কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা। তার পরই আদালত অবমাননার দায়ে কারনানকে নোটিশ পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট। এবং তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ অনুসারে চার চিকিৎসকের দল তাঁর কলকাতার বাসভবনে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য গেলে বিচারপতি কারনান তাঁদের ফিরিয়ে দেন। তিনি ‘পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক’ বলে চিকিৎসকদের জানান তিনি। এর পরই বিচারপতি কারনান দেশের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর-সহ সুপ্রিম কোর্টের যে সাত বিচারপতির বেঞ্চে তাঁর বিচার চলছে, সেই সাত বিচারপতিকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া আরও সুপ্রিম কোর্টের আরও এক বিচারপতিকে কারাদণ্ড দেন তিনি। দণ্ডিত আট বিচারপতির মধ্যে প্রধান বিচারপতি ছাড়া বাকিরা হলেন বিচারপতি আর ভানুমতী, বিচারপতি মদন বি লকুর, বিচারপতি দীপক মিশ্র,  বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফ, বিচারপতি জে চেলামেশ্বর এবং বিচারপতি পিনাকী চন্দ্র ঘোষ।

আরও পড়ুন ঃ বিচারপতি কারনানকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিল সুপ্রিম কোর্ট

উপরন্তু কারনান বলেন, “আট বিচারপতি যৌথ ভাবে যে অপরাধ করেছেন সেই অপরাধ ১৯৮৯-এর তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি অত্যাচার আইন এবং ২০১৫-এর সংশোধিত আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।” বিচারপতি কারনানের এই দণ্ডাদেশের পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁকে ছ’ মাসের কারাবাসের আদেশ দেয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে কারনানই হলেন প্রথম কোনো হাইকোর্টের বিচারপতি যাঁকে সুপ্রিম কোর্ট ছ’ মাসের কারাবাসের আদেশ দেয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here