ওয়েবডেস্ক: বুধবার কুমারস্বামীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকেই বিজেপি বিরোধী জোটের শো পিস হিসেবে দেখাতে চাইছে কংগ্রেস। লক্ষ্য, ২০১৯-এ দিল্লির তখত জয়। সারা দেশের নজর এখন তাই কর্নাটকের দিকে। কিন্তু কর্নাটকের আড়ালে এগিয়ে আসছে তিনটি লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। তিনটিতেই বিজেপি সাংসদের মৃত্যু বা পদত্যাগের কারণে উপনির্বাচন হবে ২৮ মে। গণনা ৩১ মে। এই তিনটি কেন্দ্র হল মহারাষ্ট্রের পালাঘার ও ভান্ডারা-গোন্ডিয়া এবং উত্তর প্রদেশের কইরানা। এই তিনটি আসনের মধ্যে বিরোধী জোটের সবচেয়ে বড়ো পরীক্ষা উত্তর প্রদেশের কইরানায়। পরীক্ষা বিজেপির হিন্দু বনাম মুসলিম রাজনীতিরও।

বিজেপি সাংসদ হুকুম সিং-এর মৃত্যুতে কইরানা আসনটি খালি হয়েছে। তবে ১৭ লক্ষ ভোটদাতার এই আসনটিতে গতবার বিজেপি মোদী হাওয়ায় ভর করে জিতলেও তার আগের তিনবারই আসনটি জিতেছিল বিরোধীরা। ২০০৯ সালে বিএসপি এবং তার আগের দুবার রাষ্ট্রীয় লোক দল। ১৭ লক্ষ ভোটারের মধ্যে কেন্দ্রে প্রায় ৫ লক্ষ মুসলিম ভোটার। আড়াই লক্ষ দলিত এবং দেড় লক্ষ জাঠ ভোটার। এছাড়া রয়েছে হিন্দু গুজ্জর, সৈনির মতো অন্যান্য পিছিয়ে থাকা জাতির ভোটাররাও। সহানুভূমি ভোট পাওয়ার আশায় প্রয়াত হুকুম সিং-এর মেয়ে মৃগাঙ্কা সিং-কে কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে বিজেপি।

কিন্তু চমক রয়েছে বিরোধী প্রার্থীর ক্ষেত্রে। ২০০৯ সালে বিএসপি-র হয়ে এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন তাবাসুম হাসান। তাঁর প্রয়াত স্বামী ছিলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ। বিএসপি-র হয়ে সাংসদ হওয়ার পর তাবাসুম সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দেন। তাঁর ছেলে নাহিদ হাসান বর্তমানে এসপি-র বিধায়ক। একাধারে গুজ্জর এবং মুসলিম হওয়ায় সংখ্যালঘু ভোট এবং গুজ্জর ভোটের একটা বড়ো অংশে তাবাসুমের প্রভাব রয়েছে। এই সব দিক বিবেচনা করে তাঁকেই প্রার্থী করেছে বিরোধীরা। কিন্তু তিনি লড়বেন রাষ্ট্রীয় লোক দলের প্রতীকে। অজিত সিং-এর আরএলডি মূলত জাঠদের পার্টি। কেন্দ্রে দেড় লক্ষেরও বেশি জাঠ ভোটার রয়েছে। বিজেপি বিরোধী জোটের জায়গা থেকে প্রার্থী দেয়নি বিএসপি-ও। ফলে মুসলমান-দলিত-জাঠ-গুজ্জর ভোটের মেলবন্ধন করতে বিরোধীদের সেরা বাজি তাবাসুমই। প্রার্থী নির্বাচনের দিন এসপি নেতা অখিলেশ ও আরএলডি নেতা জয়ন্ত চৌধুরীর মধ্যে তিন ঘণ্টা বৈঠক হয়। ঠিক হয় লোকসভা আসনটি আরএলডি-কে ছেড়ে দিলেও নুরপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে লড়বে এসপি। সমর্থন করবে আরএলডি। ওই উপনির্বাচনটিও ২৮ মে।

এ সবের মধ্যে সম্পূর্ণ নীরব কংগ্রেস। তাঁরা প্রার্থী দেয়ইনি। কর্মী -সমর্থকদের কোনো সরাসরি বার্তাও দেয়নি। গোপনে বলা হয়েছে, যাতে তাঁরা বিজেপি বিরোধী জোট প্রার্থীকেই ভোট দেন। অর্থাৎ এই কেন্দ্রে  এসপি-বিএসপি-কংগ্রেস-আরএলডি-নিষাদ পার্টি- পাঁচ দলের যৌথ প্রার্থী তাবাসুম হাসান। তাই ২০১৯-এর বিরোধী জোটের অ্যাসিড টেস্ট হতে চলেছে এই কেন্দ্রটিই।

বসে নেই বিজেপিও। তাঁরা তাঁদের চিরাচরিত হিন্দু বনাম মুসলিম খেলা শুরু করে দিয়েছে। এলাকার গুজ্জর ভোট হিন্দু-মুসলিমে কোনোদিনই বিভাজিত ছিল না। কিন্তু এবার সম্ভবত তা হতে চলেছে। কারণ তাঁদের প্রার্থী মৃগাঙ্কা সিং-ও গুজ্জর। অর্থাৎ দুই প্রার্থীই গুজ্জর, কিন্তু একজন হিন্দু ও একজন মুসলিম।

পাশাপাশি এই কেন্দ্র ২০১৩ সালের মুজফ্‌ফরনগর দাঙ্গারও এলাকা। সেই ক্ষত এখনও দগদগে। পাশাপাশি কেন্দ্রের খুব কাছেই আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। জিন্নাহের ছবি সেখানে সম্প্রতি যে সাম্প্রদায়িক গোলমাল তৈরি করা হয়েছে, সেটাও কইরানার ভোটকে মাথায় রেখেই।

তারপর রয়েছে বিজেপি-র তুরুপের তাস, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রচারের শেষবেলায় তিনি যে টি টুয়েন্টির ঢঙে হিন্দুত্বের তাস খেলবেন, তা চোখ বুজে বলা যায়। সেই ধাক্কা বিরোধী জোট সামাল দিতে পারে কিনা, সেটাই দেখার। অ্যাসড টেস্ট বলে কথা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here