শৈবাল বিশ্বাস

গেরুয়া যে তাঁর রাজনৈতিক রঙ নয়, সে কথা আগেই বলেছিলেন তিনি। এ বার নিজের রাজনৈতিক দল গড়তে তৎপর হলেন অভিনেতা কমল হাসন। এই সেপ্টেম্বরেই নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করছেন প্রবীণ এই অভিনেতা।

তামিল রাজনীতিতে সিনেমার জগতের মানুষদের অবদান কম কিছু নয়। এমজিআর, জয়ললিতা, বিজয়কান্ত, সবাই সিনেমাজগত থেকে উঠে এসেই রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন। জল্পনা চলছে থলাইভা রজনীকান্তকে নিয়েও। সেই দলেই এ বার নাম লেখাতে চলেছেন হাসন।

চার হাজার বাছাই করা কর্মী নিয়ে কনভেনশন করে কমল হাসন নতুন দলের সূত্রপাত করবেন বলে জানা গেছে। অভিনেতার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, “দল তৈরি করার সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কিছু দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে। সম্ভবত বিজয়া দশমী বা গান্ধী জয়ন্তীর দিন এই ঘোষণা করা হবে।” তবে পরবর্তীকালে রজনীকান্ত একই পথে এলে কী হবে? রজনীকান্তর সঙ্গে কথা বলে কমল হাসান নিশ্চিত, তিনি এ পথে আসবেন না।

নতুন দলের যাত্রা শুরু হবে আসন্ন পুরনির্বাচন থেকে। গোড়ায় তারা বামদলগুলির সঙ্গে জোট বেধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে স্থির হয়েছে। ইতিমধ্যেই কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে তার একপ্রস্থ আলোচনা হয়ে গেছে। সে খবর ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সিপিএমের সঙ্গে এই জোটে সামিল হবে পিএমকে। সিপিআই কী কববে তা এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি।

কমল হাসন মনে করেন, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ঢোকার এটাই উপযুক্ত সময়। শশীকলাপন্থী ১৯ জন বিধায়ক সম্প্রতি পালানিস্বামী সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। মওকা বুঝে ডিএমকে সভাপতি তথা বিরোধী দলনেতা এম কে স্টালিন আস্থাভোটের দাবিতে মামলা করে দিয়েছেন। শশীকলাপন্থী ১৯ জন বিধায়ককে বাদ দিলে তাদের হাতে আছে ১২৬ জন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ১১৭ জনের সমর্থন। তবুও স্টালিন নিশ্চিত সবাই পালানিস্বামীকে ভোট দেবেন না। আবার ৯৮ জন বিরোধীকে নিয়ে ডিএমকেও কিছু করতে পারবে না। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে বাজারে নামলে সাফল্য নিশ্চিত বলে মনে করছেন কমল।

আরও পড়ুন: গেরুয়া তাঁর রঙ নয়, বিজয়নের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বললেন কমল হাসন

তৃণমূল স্তরে মানুষের সঙ্গে মেশার জন্য আসন্ন নির্বাচনই আদর্শ বলে মনে করেন হাসন। সূত্রের খবর, বিভিন্ন জেলায় নিজের ভক্ত গোষ্ঠীর (ফ্যান গ্রুপ) সদস্যকেই আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী করা হতে পারে।

বামপন্থী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার খবর নতুন নয়। চলতি মাসের প্রথম দিনেই কমল হাসন তিরুঅনন্তপুরমে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রাজনীতিতে ঢোকা নিয়ে কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ নিচ্ছিলেন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর কোড়িকোড়ে একটি সভায় যোগ দেবেন কমল। সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আয়োজিত ওই সভা উদ্বোধন করবেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেরল সিপিএমের বেশ কয়েক জন নেতা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন