গুয়াহাটি:  ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরবালা কনকলতা বরুয়ার (Kanaklata Barua) অবদান সম্পর্কে খুব একটা আলোচনা হয় না। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় এই নারী ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। তিনি অসমের সর্বকনিষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে অসমের প্রথম নারী শহিদ।

’৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে স্থানীয় থানায় তেরঙা পতাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে কনকলতা মৃত্যুবরণ করেন। কনকলতার বয়স তখন মাত্র ১৭ বছর। আজ যখন দেশ জুড়ে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ (azadi ka amrit mahotsav) পালিত হচ্ছে, তখন কনকলতাকে স্মরণ করা আমাদের একান্ত কর্তব্য।   

কনকলতার জন্ম অসমের অবিভক্ত দরং জেলার বরঙাবাড়ি গ্রামে। বাবার নাম কৃষ্ণকান্ত এবং মায়ের নাম কর্ণেশ্বরী। কনকলতার ঠাকুরদা ঘনকান্ত বরুয়া দরং-এর নামকরা শিকারি ছিলেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে কনকলতা তার মা-কে হারায়। বাবা আবার বিয়ে করেন। কিন্তু কনকলতার ১৩ বছর বয়সে পিতৃদেবের মৃত্যু হয়। ছোটো ছোটো ভাইবোনেদের মানুষ করার জন্য কনকলতা তৃতীয় শ্রেণির পরে আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি।     

ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তদানীন্তন দরং জেলার গহপুর মহকুমায় মৃত্যুবাহিনী গঠিত হয়। জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালের নেতৃত্বে গঠিত ওই বাহিনীতে অকুতোভয় ছেলেমেয়েরা যোগ দেয়। এমন সব ছেলেমেয়ে যারা দেশের জন্য প্রাণ দিতে পিছপা নয়। সেই মৃত্যুবাহিনীরই সদস্য ছিলেন কনকলতা।

দিনটা ছিল ২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২। ঠিক হল, স্থানীয় থানায় ব্রিটিশ পতাকা নামিয়ে তেরঙা পতাকা তোলা হবে। সেইমতো নিরস্ত্র গ্রামবাসীদের এক দীর্ঘ মিছিল এগিয়ে চলে থানার দিকে। সেই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন কনকলতা। পুলিশ মিছিলকে বাধা দেয়। স্থানীয় দারোগা রেবতীমোহন সোম মিছিলকারীদের ফিরে যেতে বলেন। আদেশ না মানা হলে চরম ফলের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন। গুলি চলবে বলে জানিয়ে দেন তিনি।

দারোগার হুমকিতে কান না দিয়ে কনকলতা মিছিল নিয়ে এগিয়ে চলেন। পুলিশ গুলি চালায়। গুলি খেয়ে পড়ে যান কনকলতা। তাঁর হাতে ধরা পতাকাটি তুলে নিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন মুকুন্দ কাকোতি নামে এক যুবক। তিনিও গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান কনকলতা ও মুকুন্দ।

১৯৯৭ সালে ভারতীয় উপকূল রক্ষীবাহিনীর (ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ড) প্রথম পাইলট ভেসেলটির নামকরণ করা হয় কনকলতা বরুয়ার নামে – ‘আইসিজিএস কনকলতা বরুয়া’।

কনকলতার জীবনকাহিনি নিয়ে তৈরি হয়েছে অসমিয়া ফিল্‌ম ‘এপাহ ফুলিল এপাহ জোরিল’। এর হিন্দি ভাষান্তরও হয়েছে – নাম, ‘পুরব কি আওয়াজ’।

আরও পড়তে পারেন

প্রবল সাহস ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে রানি রাসমণি বার বার লড়েছেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে

গোয়ালিয়রের ফুলবাগ এলাকায় ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে শহিদ হন ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ

তৃতীয় গুলি ফাটিয়ে দিল মাথার খুলি, লুটিয়ে পড়লেন ‘গান্ধীবুড়ি’, তখনও তাঁর বুকে চেপে ধরা ত্রিবর্ণ পতাকা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন