এক মেষপালকের স্মৃতিতে কারগিল যুদ্ধ

কারগিল থেকে প্রায় ৬০ কিমি দুরে বাটালিক শহরের লাগোয়া ঘারকোন গ্রামের বাসিন্দা তাশি। বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন হারিয়ে যাওয়া চমরী গাইটাকে খুঁজতে। তারপর...

0
Tashi-Namgyal

ওয়েবডেস্ক : তখন চারিপাশে শান্তির হাওয়া। ১৯৯৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি লাহোর ঘোষণাপত্রে সই করেছেন তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দঢ় করতে শুরু হয়েছে লাহোর বাসযাত্রা। এই সব কিছুতে জল ঢেলে দিল মে মাসে পাকস্তানী সেনাদের অনুপ্রবেশ।

কারগিল সেক্টর দিয়ে পাক সেনাদের অনুপ্রবেশ প্রথম দেখতে পেয়েছিলেন লাদাখের এক মেষপালক। নাম তাশি নামগয়াল।

কারগিল থেকে প্রায় ৬০ কিমি দুরে বাটালিক শহরের লাগোয়া ঘারকোন গ্রামের বাসিন্দা তাশি। বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন হারিয়ে যাওয়া চমরী গাইটাকে খুঁজতে।

দেখতে দেখতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল। ৩৬ বছরের তাশি নামগয়াল এখন ৫৬-তে পড়েছেন। তিনি নিজেই জানালেন ৩ মে ২০১৯-এর সেই ঘটনার কথা।

দিন-তারিখ সমেত গড়গড় করে বলে তাশি নামগয়াল বলে যাচ্ছিলেন সেদিনের কথা, ‘‘ ৩মে ১৯৯৯-এর সকালে আমি আর বন্ধু মিলে আমার হারিয়ে যাওয়া চমরী গাইটাকে খুঁজতে বেরিয়েছি। সঙ্গে ছিল একটা বায়নোকুলার। তাতে চোখ রেখে এদিক-ওদিক তাকাতেই চোখে পড়ল, পাঠানের পোশাকে একদল লোক মাটি খুঁড়ে বাঙ্কার তৈরি করছে। ভালো করে দেখতেই বুঝতে পারলাম ওদের কাছে অস্ত্রসস্ত্রও রয়েছে। তারা ঠিক সংখ্যায় কতজন ছিল তা হিসাব করা সম্ভব ছিল না । কিন্তু এটা বুঝতে পারলাম যে ওরা নিয়ন্ত্রণ রেখা পার করে প্রবেশ করেছে।’’

না থেমেই তিনি বলছিলেন,‘‘ আমি দ্রুত নেমে এসে স্থানীয় ভারতীয় সেনা পোস্টে বিষয়টা জানালাম। তাঁরা ভালো করে যাচাই করে বলেলেন আমার তথ্যই ঠিক, নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে ঢুকে পড়েছে পাকিস্তানি সেনা।’ তারপর বাকিটা ইতিহাস।

ভারতের জয় দিয়ে ২৬ জুলাই শেষ হয় কারগিল যুদ্ধ।

আরও পড়ুন :

কারগিল যুদ্ধ: টলোলিংয়ে যে ভাবে ‘হিরো’ হয়ে উঠেছিলেন চা-ওয়ালা নসিম

কারগিলের মতো দুর্গম এলাকায় লড়াইয়ের প্রশিক্ষণ দেয় যে স্কুল

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.