কাশ্মীরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে আলোচনা করার দাবি জানাল বিরোধী দলগুলি। উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে এছাড়া কোনও উপায় নেই বলেই মনে করছেন তবে সব পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের গণ্য করা হবে কি না সে বিষয় স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের কাশ্মীর সফরের পর্যালোচনা করতে বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সাথে বৈঠকে বসেন ওই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। সেখানেই উঠে আসে আলোচনার প্রসঙ্গ। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে আদৌ আলোচনা হবে কি না সে জল্পনা জিইয়ে রেখে বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ বলেন, “রাজনাথ সিংহ যখন বলেছেন সবার সঙ্গে কথা বলা হবে, তখন সবার সঙ্গেই হবে”।

তিনি আরও বলেন, “বৈঠকে সবাই একমত হয়েছে যে, কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের জন্য সব মানুষের উচিত হিংসা ছেড়ে আলোচনায় বসা। হিংসায় যাঁরা আহত হয়েছেন তাঁদের কাছে ঠিকঠাক চিকিৎসা ব্যবস্থা পৌঁছে দিতে হবে”।

কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের মতে কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রের উচিত সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করা। পাশাপাশি পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা, হাসপাতালগুলির দেখভালের কথা বলেন তিনি। সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি মনে করেন, কাশ্মীরবাসীর মনে এখনও বিশ্বাসের অভাব রয়ে গেছে, সেটা আগে অর্জন করতে হবে।

ইয়েচুরি বলেন, “আমরা সরকারকে কিছু পরামর্শ দিয়েছি। কাশ্মীরবাসির বিশ্বাস-অর্জনের জন্য সরকারের পাঁচটি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ছররা গুলির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ছররা গুলিতে আহত সকলের পাশে থাকতে হবে সরকারকে। শহরাঞ্চল থেকে আফস্পা প্রত্যাহার করতে হবে। কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন পথ ঘোষণা করতে হবে সরকারকে”। ইয়েচুরি আরও বলেন, “সব অংশীদারদের সাথের নিঃশর্তে আলোচনায় বসতে হবে। দরকারে পাকিস্তানের সাথে কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে সরকারকে”।

উল্লেখ্যে অশান্ত কাশ্মীরে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে গত ৪ সেপ্টেম্বর কাশ্মীর সফর করেন কেন্দ্রীয় সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল। রাজ্যের ক্ষমতাসীন, বিরোধী-সহ প্রথমসারির আরও অনেক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করে তারা। কিন্তু প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি হুরিয়ৎ কনফারেন্সের নেতারা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here