separatist leaders of kashmir

ওয়েবডেস্ক: কাশ্মীর নিয়ে কি আলোচনা শুরু হবে? অন্তত দু’ পক্ষের কথাবার্তায় সে রকমই ইঙ্গিত মিলছে। হুরিয়ত নেতৃত্ব মঙ্গলবার জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের ব্যাপারে ভারতীয় নেতৃত্ব এক সুরে কথা বললে তারা শান্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে প্রস্তুত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই কথা জানিয়েছেন হুরিয়ত নেতারা।

গত শনিবার রাজনাথ বলেছিলেন, হুরিয়ত নেতৃত্ব যদি এগিয়ে আসে, তা হলে কেন্দ্র কাশ্মীর নিয়ে শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। রাজনাথের প্রস্তাব বিবেচনা করতে কট্টরপন্থী হুরিয়ত নেতা সৈয়দ আলি গিলানি মঙ্গলবার তাঁর হায়দরপুরার বাসভবনে এক বৈঠক ডাকেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হুরিয়ত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ উমর ফারুক এবং জেকেএলএফ-এর চেয়ারম্যান ইয়াসিন মালিক।

বৈঠকের পর কাশ্মীরের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর যৌথ সংগঠন জয়েন্ট রেজিস্ট্যান্টস লিডারশিপ (জেআরএল)-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতি প্রকাশ করা বলা হয়, “ভারত সরকার পরিষ্কার করে বলুক তারা কী নিয়ে কথা বলতে চায় এবং তারা এক সুরে কথা বলুক। আমরা এই প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে প্রস্তুত।”

জেআরএল বলেছে, সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকা দরকার। এবং আলোচনায় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে, যে অঙ্গীকার করা হবে সে সব যে মানা হবে সে সম্পর্কে সব পক্ষ থেকে পরিষ্কার আশ্বাস চাই।

জেআরএল আরও বলেছে, “নয়াদিল্লিতে প্রশাসনে আসীন কর্তাব্যক্তিরা গত কয়েক দিন ধরে আলোচনা নিয়ে নানা কথা বলছেন। সে সব কথা অস্পষ্ট।” বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যৌথ নেতৃত্ব আরও বলেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলছেন, কাশ্মীর এবং পাকিস্তান, উভয় পক্ষের সঙ্গেই আলোচনায় বসা হবে। অন্য দিকে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ শর্ত দিচ্ছেন। বলছেন, সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম বন্ধ না করলে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো কথা নয়। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলছেন, অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য, জঙ্গিদের জন্য নয়। আবার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিজি বলছেন, জঙ্গিরা যাতে ঘরে ফিরতে পারে, তার জন্য অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। “কথাবার্তায় এত অস্পষ্টতা থাকলে আলোচনার প্রস্তাব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে”, মন্তব্য জেআরএল-এর।

তবে জেআরএল পরিষ্কার বলেছে, কাশ্মীর সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের সব চেয়ে ভালো পথ হল, সমস্যায় জড়িত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা। “জম্মু-কাশ্মীর একটি বিভক্ত অঞ্চল। এর অর্ধেক পাকিস্তানে। এই সমস্যায় তিনটি পক্ষ জড়িত – ভারত, পাকিস্তান এবং কাশ্মীরের জনগণ। তিন পক্ষের আন্তরিকতার মধ্যে পরিষ্কার আলোচ্যসূচির ভিত্তিতে কার্যকর আলোচনাই হল সমস্যা সমাধানের সুনিশ্চিত ও শান্তিপূর্ণ পথ।”

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক অতীতে এই প্রথম বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতৃত্ব কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে কোনো পূর্বশর্ত আরোপ করল না। আশার আলো সেটাই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here