নিজেদের কথামতো কাশ্মীরের বিচ্ছিনতাবাদী নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে ফিরলেন সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের কয়েকজন নেতা।

রবিবার বিকেলের দিকে শ্রীনগরে চশমশাহি জেলে হুরিয়ত নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুকের সাথে দেখা করতে যান এআইএমআইএম নেতা আসাদ-উদ-দিন ওয়াইসি। মিনিট খানেকের আলাপচারিতা ছাড়া অন্য কথা বলতে অস্বীকার করেন মিরওয়াইজ। তিনি বলেন, এরকম উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বাঁধা গতের আলাপআলোচনায় কোনও লাভ নেই। এই ব্যাপারে আসাদ-উদ-দিন বলেন, “আস্থা অর্জনের একটি ছোট্ট পদক্ষেপ হিসেবে গিয়েছিলাম”। অন্য দিকে হুমহুমা পুলিশ স্টেশনে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিকের সাথে দেখা করতে যান সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, জনতা দল ইউনাইটেডের শরদ যাদব। কিন্তু এখানেও প্রত্যাখ্যাত হন ইয়েচুরিরাও। এরপর আর এক নেতা আলি শাহ গিলানির সাথে দেখা করতে গেলে তিনিও এই প্রতিনিধিদলকে প্রত্যাখ্যান করেন।

হুরিয়তকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়ে শনিবার রাতে তাঁদের চিঠি দেন মেহবুবা মুফতি। কিন্তু রবিবার সকালেই সেই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয় হুরিয়ত। হুরিয়ত নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়াকে সমালোচনা করে কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ জানান, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আমন্ত্রণ জানানোর আগে মেহবুবার উচিত ছিল হুরিয়ত নেতাদের গৃহবন্দি দশা থেকে মুক্তি দেওয়া।

উল্লেখ্য, কাশ্মীরে শান্তি ফেরানোর উদ্দেশ্যে রবিবার সকালে রাজ্যে পৌঁছন সর্বদলীয়  প্রতিনিধিদল। শ্রীনগরের শের-এ-কাশ্মীর অডিটোরিয়ামে প্রথমে মেহবুবার পিডিপি আর ওমর আবদুল্লাহ-এর ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতাদের সাথে বৈঠক করার পর রাজ্যের আরও মূল ধারার রাজনৈতিক দলের সাথে দেখা করেন তাঁরা। শ্রীনগরের উদ্দেশে যাত্রা করার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ জানান, “কাশ্মীরে শান্তি ফেরাতে ইচ্ছুক এমন সব মানুষের সাথে আমরা কথা বলতে প্রস্তুত”।

তবে শান্তি ফেরানোর জন্য প্রতিনিধিদল পৌছনোর দিনও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকল কাশ্মীরে। শোপিয়ানে নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে সংঘর্ষে বহু লোকের আহত হওয়ার খবর এসেছে। এখানে একটি প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগানো হয়। হিজবুল জঙ্গি বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর উপত্যকায় যে অশান্তি শুরু হয়েছে তা ৫৮তম দিনে পড়ল।     

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here