ওয়াশিংটন : প্রায় দশ মাস পর পূর্ণ হল ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের শূন্যপদ। ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নিলেন কেনেথ জাস্টার। ভারতীয় বংশোদ্ভুত রিচার্ড বর্মার জায়গায় এলেন কেনেথ।

কেনেথের  মনোনয়ন প্রসঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, কেনেথ দু’ দেশের মধ্যে একটা শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলবেন। দু’ দেশের নাগরিকদের জন্য তা খুবই লাভদায়ক হবে। কেনেথের কাজ মূলত দু’ দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক অসামরিক পারমাণবিক চুক্তির ভিত তৈরি করা। তিনি টুইট করেও কেনেথকে অভিনন্দিত করেছেন।

৪৫তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ডোলাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পর রিচার্ড বর্মা পদত্যাগ করেন। ২০ জানুয়ারি তাঁর পদত্যাগের পর থেকে এই পদটা খালি ছিল।

কেনেথ বলেছেন, ভারত-মার্কিন দু’টো দেশই সমান মর্যাদা, গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ আর আইনের শাসন করে। তিনি বলেন, প্রশাসন দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করে আমেরিকার স্বার্থেই একটা শক্তিশালী ভারত গড়ে তোলা দরকার। আর ইন্দো-মার্কিন সম্পর্কও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ভূমিকা, বিশ্বব্যাপী সংকটপূর্ণ পরস্থিতি, নিরাপত্তাহীনতা, ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতি এই সবই তার মধ্যে রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, দু’ দেশের সম্পর্কের মধ্যে অম্যতম প্রধান স্তম্ভ হল প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রটা। ভারতের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রধান সহযোগী হিসেবে থাকবে মার্কিন দেশ। জলপথ ও আকাশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক ক্ষেত্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে এই দু’ দেশ হাত মিলিয়ে কাজ করবে। বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটা একটা দারুণ পদক্ষেপ হবে।

এই মাসের শেষের দিকে হায়দরাবাদে ‘গ্লোবাল ইন্টারপ্রেনার সামিট’-এর আয়োজন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে ভারত সফরে আসছেন ট্রাম্প-কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্প। হায়দরাবাদে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মার্কিন দেশের বিভিন্ন উদ্যোগপতি আর বিশিষ্টজনেরা। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে কেনেথ নেতৃত্ব দিতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সেনেটের সর্বসম্মতিক্রমে কেনেথ মনোনীত হন। ইন্দো-মার্কিন হাই টেকনোলজি কর্পোরেশন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন কেনেথ। তা ছাড়া দু’ দেশের মধ্যে ‘নেকস্ট স্টেপ ইন স্ট্যাটেজিক পার্টনারশিপ ইনিশিয়েটিভের’ প্রধান স্থপতিও তিনি।

কেনেথ সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যাফেয়ারে ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ন্যাশনাল ইকনোমিক কাউন্সিলের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তা ছাড়া জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনে ইন্দো-মার্কিন সম্পর্ক দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৯২ – ৯৩ সাল থেকে তিনি স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৯ থেকে ৯২ সাল স্টেট ডেপুটি সেক্রেটরির তিনি ডেপুটি ও সিনিয়ার অ্যাডভাইজার ছিলেন।

এ ছাড়াও বহু পালকই রয়েছে তাঁর মুকুটে।