তিরুঅনন্তপুরম: দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী ডাক দিয়েছেন ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’। রাজ্যে রাজ্যে রয়েছে কন্যাভ্রূণ হত্যা ঠেকাতে অসংখ্য প্রকল্প। কিন্তু ভারতে ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ এখনও যে অলিম্পিকে মেডেল পাওয়ার মধ্যে আটকে, তার প্রমাণ মেলে বারবার।

দেশে সবার আগে ১০০ শতাংশ সাক্ষরতা অর্জন করেছে কেরল। সেই কেরলেরই একটি সংবাদপত্রে পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়ার ‘বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত’ কিছু পরামর্শ প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গলবার। মালায়ালাম ভাষায় প্রকাশিত সেই নিবন্ধ তার পর ইংরাজিতে অনুবাদ করে প্রকাশিত হয়েছে একটি ইংরাজি পত্রিকায়।

কেরলের সংবাদপত্র ‘মঙ্গলম’-এ অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের উদ্দেশে প্রচুর পরিমাণে প্রাণীজ প্রোটিন, বিশেষ করে পাঁঠার মাংস খাওয়ার, নিয়মিত সকালের জলখাবার খাওয়ার এবং বাঁ দিকে পাশ ফিরে ঘুমোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে উল্লেখ করা আছে, এই নিয়ম মেনে চললে নাকি পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গর্ভধারণে ইচ্ছুক মহিলাদের উদ্দেশে সপ্তাহের প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম এবং সপ্তম দিনে সঙ্গমের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে ওই পত্রিকার তরফ থেকে। বলা হয়েছে, এ কথা ‘বিজ্ঞানসম্মত’ ভাবে প্রমাণিত যে ওই দিনগুলোয় শুক্রাণু ‘শক্তিশালী’ থাকে।  

সমাজকর্মী রঞ্জনা কুমারীর কথায়, “কেরল ভারতের এগিয়ে থাকা রাজ্যগুলির মধ্যে একটি। সেখানকার মানুষ কী ভাবে এই মিথ্যে, অবৈজ্ঞানিক তথ্য সহ্য করল, ভাবতেই পারছি না।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারতে প্রতি বছর ১০০০ পুত্রসন্তানের জন্ম হলে কন্যাসন্তানের সংখ্যাটা হয় ৯৪০। হরিয়ানার ছবিটা সবচেয়ে ভয়াবহ, সেখানে সংখ্যাটা ৮৩০।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here