বন্যার আশঙ্কায় বন্ধ করা হল কোচি বিমানবন্দর, তীব্র আতঙ্কে কেরল

0

কোচি: গত বছর আগস্টের ছবিটাই আবার ফিরছে বলে মনে করছে কেরলবাসী। গত কয়েক দিন ধরে চলা প্রবল বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণই নেই। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এরই মধ্যে পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কোচি বিমানবন্দরে।

বিমানবন্দরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা পেরিয়ার নদী এবং একটি খালের জলস্তর আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়ে গিয়েছে। ফলে বিমানবন্দরের রানওয়েতে জল ঢুকতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, রাত বারোটা পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরে গভীর রাতে তারা জানিয়ে দিয়েছ্‌ রবিবার বিকেল ৩টে পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ করা হচ্ছে।

এতে বিপাকে পড়েছেন কলকাতার সেক্টর ফাইভে কর্মরত কেরলের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বেম্বলসেরি। ছুটি নিয়ে ত্রিসুরে নিজের বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। সোমবার কলকাতায় ফেরার কথা তাঁর। সোমবারও বিমানবন্দরে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে কি না চিন্তা করছেন তিনি। গত বছর ভয়াবহ বন্যায় তাঁর বাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ বার এখনও পর্যন্ত সব কিছু আয়ত্তের মধ্যে থাকলেও তাঁর আশঙ্কা বৃষ্টি না থামলে আবার আগের বছরের পরিস্থিতি তৈরি হবে।

আরও পড়ুন ৩৭০ ধারা জম্মু ও কাশ্মীরকে সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী

এ বার বর্ষাটা খুব খারাপ ভাবে শুরু হয়েছিল কেরলে। বৃষ্টির অভাবে রাজ্যের প্রায় সব জলাধার জলশূন্য হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টি না শুরু হলে খরা ঘোষণা করারও চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। আগস্ট পড়তেই এক্কেবারে বদলে যায় জলের ছবিটা। কেরল উপকূল বরাবর গত ৫ দিন ধরেই রয়েছে একটি অক্ষরেখা। সে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি নামিয়ে চলেছে। প্রথমে বৃষ্টির দাপট বেশি ছিল রাজ্যের উত্তর এবং পাহাড়ি অংশে। ওয়েনাড়, কোড়িকোড়, মলাপুরম এবং ইদুকি জেলা বন্যা এবং ধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন রাজ্যের বাকি অংশেও বন্যার আশঙ্কা গ্রাস করেছে।

এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে একজনের মৃত্যু হয়েছে রাজ্যে। রাজ্য জুড়ে ৩১৫টি ত্রাণশিবির তৈরি করা হয়েছে। সেখানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে ২২,৫০০ মানুষকে। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন করেছেন, আপৎকালীন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিজেদের কাছে মজুত করে রাখতে। সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবের ফাঁদে কেউ যাতে পা না দেন, সে কথাও বলেছেন তিনি।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসও ভালো নয়। আগামী পাঁচ দিনই রাজ্যে জোরদার বৃষ্টি চলবে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আগামী তিন দিন অতি ভারী বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও চরম অতি ভারী বৃষ্টিরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এই পূর্বাভাসের ভিত্তি করে রাজ্যের তিরুঅনন্তপুরম এবং কোল্লম জেলা বাদে সব জেলায় স্কুল এবং কলেজগুলি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.