kerala floods recovery
বন্যার জল নেমে যাওয়ার পরে কোচির রাস্তায় কাদা। ছবি: এএফপি

ওয়েবডেস্ক: কেরলের অনেক জায়গা থেকেই জল নামতে শুরু করেছে। কিন্তু অতীতের কিছু ঘটনা থেকে যা আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছে তা হল দক্ষিণের এই রাজ্যটিকে ছন্দে ফিরতে লেগে যেতে পারে বহু বছর।

একশো বছরের অন্যতম ভয়ংকর দুর্যোগের আখ্যা দেওয়া হচ্ছে কেরলের এই বিপর্যয়কে। রাজ্য সরকারের এখন লক্ষ্য পুরো রাজ্যকে নতুন ভাবে গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে এ রকম বিপর্যয় যাতে না ঘটে, সে দিকেও নজর রাখতে হবে রাজ্যকে।

রাজ্য সরকারের হিসেবে বন্যায় প্রায় কুড়ি হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজ্য জুড়ে। এর মধ্যে সব থেকে খারাপ অবস্থা এর্নাকুলাম, কোট্টায়াম, ইদুক্কি  এবং মালাপ্পুরম জেলাগুলি। সরকারের এখন প্রাথমিক লক্ষ্য সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। ঠিকঠাক ত্রাণ পৌঁছোয় কি না, সে দিকেও নজর রাখতে হবে। কিন্তু সামনের দিকের পথ যে বন্ধুর সে কথাও মেনে নিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা।

আরও পড়ুন কেরলের বন্যাত্রাণ নিয়ে ছড়াচ্ছে ভুয়ো রাজনৈতিক ভিডিও, সতর্ক থাকতে বলল সেনা

কী ভাবে রাজ্যটাকে নতুন ভাবে গড়ে তোলা হবে, এই প্রশ্ন করা হলে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেছিলেন, “কঠিন সময় আসতে চলেছে।” তাঁর কথায়, “ত্রাণ শিবিরে দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ রয়েছেন। তাঁরাই এখন আমাদের কাছে প্রাধান্য।

kerala floods recovery
নামানো হচ্ছে ত্রাণের সামগ্রী। ছবি: টুইটার

সরকারি হিসেবে, রাজ্যে বন্যায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এক লক্ষ বাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দশ হাজার কিলোমিটার সড়কপথ। কত হেক্টর কৃষিজমি যে জলের তলায় চলে গিয়েছে সে হিসেব এখনও করা যায়নি বলে জানিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা। সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পরেই ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারটা হিসেব করা শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কেরলকে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে এখন বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে। এই ব্যাপারে উত্তরাখণ্ড, কাশ্মীর এবং বিহারের বন্যার প্রসঙ্গ তুলে আনছেন বিশেষজ্ঞরা। চার বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ভেসে গিয়েছিল কাশ্মীর। সরকারের তরফে ঠিকঠাক ত্রাণ দেওয়া হলেও, সেই বন্যার ক্ষতি এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি কাশ্মীর। এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে সেখানে।

ঠিক এমনই অবস্থা উত্তরাখণ্ডেরও। ২০১৩-এ বিধ্বংসী হড়পা বানে ভেসে গিয়েছিল গাড়োয়াল হিমালয়ের অনেকটা অঞ্চল। কার্যত ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল কেদারনাথ। সেই দুর্যোগের প্রভাব কিন্তু এখনও রয়েছে গিয়েছে রাজ্যে। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব অমিত সিংহ নেগী বলেন, “আমরা এক হাজার কোটি টাকা পেয়েছিলাম কেন্দ্রের তরফ থেকে। সেই টাকা বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাস্তা মেরামতির কাজ এখনও চলছে। পাশাপাশি নতুন করে বাড়ি তৈরির কাজও চলছে রাজ্যে।”

kerala floods recovery
নেমেছে জল। এখন নতুন যুদ্ধ। ছবি: এএফপি

তবে ২০১৩-এর ঘটনার জন্য সব থেকে বেশি দায়ী ছিল নদীগুলির ধারে গজিয়ে ওঠা বাড়িঘর। এর ফলে নদীর প্রবাহতে বাধা পড়েছিল। এই সব বেআইনি বাড়িঘরের বিরুদ্ধে এখনও বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারেনি রাজ্য প্রশাসন। ফলে এ রকম ঘটনা ভবিষ্যতে ঘটবে না সেটা বলাও যায় না।

আরও পড়ুন সাইকেল কেনার জন্য জমানো টাকা বন্যাত্রাণে দিল কিশোরী, পাচ্ছে অপ্রত্যাশিত উপহার

২০০৮-এর কোশি নদী গতিপথ বদল করে ভাসিয়ে দিয়েছিল বিহারের ৬৬ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন ৩৩ লক্ষ মানুষ। মৃত্যু হয়েছিল ৫২৭ জনের। দশ বছর কেটে গেলেও এখনও কৃষকদের পুরোপুরি বিকল্প ব্যবস্থা করে উঠতে পারেনি বিহার সরকার। সেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের এখনও ত্রাণ এবং পুনর্বাসনের কাজ করে যেতে হচ্ছে বিহার সরকারকে।

সব মিলিয়ে একটা লড়াই থেকে মুক্তি পেলেও আরও কঠিন লড়াইয়ে নামতে হবে কেরলকে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন