ওয়েবডেস্ক: গত বছর কেরলে কী হয়েছিল আমাদের সকলেরই মনে আছে। শতাব্দীর ভয়ংকরতম বন্যায় ভেসে গিয়েছিল গোটা রাজ্য। মৃত্যু হয়েছিল প্রায় শ’খানেক মানুষের। এ বছর রাজ্যটি আরও একটি চরম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তবে এ বার আর বন্যা নয়, বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছে মানুষ।

এ বছর নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ পর কেরলে বর্ষা প্রবেশ করেছে। তার পর থেকে কার্যত বৃষ্টির দেখা নেই রাজ্যে। মধ্য কেরলে মাঝেমধ্যে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু উত্তর এবং দক্ষিণ কার্যত শুকনো। এই পরিস্থিতিতে কেরলে বৃষ্টির ঘাটতি গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশে।

বৃষ্টির অভাবে কেরলের জলাধারগুলিতে জল এমন সাংঘাতিক ভাবে কমে যাচ্ছে যে কিছু দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হারাতে পারে রাজ্যের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি। রাজ্যের জলাধারগুলিতে গড়ে আর ১১ শতাংশ জল রয়েছে। এর ফলে আগামী এক মাসের জন্য বিদ্যুতের দাম ১১.৪ শতাংশ বাড়িয়েছে কেরল সরকার। কেরলের বিদ্যুৎমন্ত্রী এমএম মানির মতে, তেমন হলে বাইরের রাজ্যগুলি থেকে বিদ্যুৎ কিনতে হতে পারে সরকারকে। সেই কারণে দাম বাড়ানো প্রয়োজন।

বৃষ্টির চরিত্র যে ভাবে বদলে যাচ্ছে সেটা আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলছে। এই দশকে এটি তৃতীয় এমন বছর চলছে যেখানে কেরলে কার্যত খরা পরিস্থিতি। আবার এরই মধ্যে একটা বছর এমনও গিয়েছে যখন প্রবল বন্যা।

গত বছর এই ছিল কেরলের পরিস্থিতি।

আরও পড়ুন ভেঙে গেল সব বাধা! পাক কিশোরের দেহ ফেরাতে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরোল ভারতীয় সেনা

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কেরলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা সেলের প্রধান শেখর কুরিয়াকোস। তিনি বলেন, “পর্যালোচনা করার পর খরা ঘোষণা উচিত কি উচিত নয়, সে ব্যাপারে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাব।”

স্থানীয় সূত্রে খবর, জলের অভাবে কেরলে জলের ট্যাঙ্কের চাহিদা খুব বেড়ে গিয়েছে। আবার নির্ধারিত দিন, অর্থাৎ ২২ জুন চাষের মরশুম শুরু করতে পারেননি চাষিরা। সাধারণত ওই দিন একটি স্থানীয় উৎসবের মধ্যে দিয়ে চাষের মরশুম শুরু হয় রাজ্যে। কিন্তু এ বার সেটা না হওয়ায় হাহাকারে কৃষকরা।

তবে এরই মধ্যে স্থানীয়দের বক্তব্য, পানীয় জল সরবরাহে রাজ্য সরকারের সময়মতো পদক্ষেপের জন্যই কেরলের পরিস্থিতি চেন্নাইয়ের মতো হয়নি। তবুও আগামী দিনে প্রচুর বৃষ্টি হোক এবং বর্তমানের কঠিন পরিস্থিতি থেকে সবাই বেরিয়ে আসুক, সেই প্রার্থনাই এখন রাজ্য জুড়ে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here