‘লাভ জিহাদ’ আখ্যা দিয়ে হিন্দু-মুসলিম বিয়ে বাতিল কেরল হাইকোর্টে, স্বামী গেলেন সুপ্রিম কোর্টে

0
1019
jahan-hadiya

নয়াদিল্লি: তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ আখ্যা দিয়ে কেরল হাইকোর্ট তাঁর বিয়ে বাতিল করে দেওয়ায় এক মুসলিম যুবক সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। ওই মুসলিম যুবকের আইনজীবী বৃহস্পতিবার এই খবর দিয়েছেন।

নিম্ন আদালতের রায় ‘ভারতীয় নারীদের পক্ষে অপমানজনক’, এই বক্তব্য পেশ করে ২৭ বছরের যুবক শফিন জহাঁ বুধবার শীর্ষ আদালতে একটি বিশেষ অনুমতির আবেদন (স্পেশ্যাল লিভ পিটিশন) দাখিল করেছেন।

গত বছরের জানুয়ারিতেই এই কেরল হাইকোর্ট একজন স্ত্রীর ধর্মান্তরে আইনি বৈধতা দিয়েছিল। হাইকোর্ট বলেছিল, ওই মহিলা প্রাপ্তবয়স্ক। জহাঁর যুক্তি, তাঁর ২৪ বছরের স্ত্রী তাঁকে বিয়ে করবেন বলে যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন, তা নয়। তিনি তাঁকে বিয়ে করার দু’ বছর আগেই ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে জোর করে ধর্মান্তরিত করার প্রশ্নই ওঠে না। শফিনের স্ত্রী হাদিয়া একজন হোমিওপ্যাথ ডাক্তার। ইসলাম নেওয়ার আগে তাঁর নাম ছিল অখিলা।

‘লাভ জিহাদ’ শব্দটি দক্ষিণপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলি ব্যবহার করে থাকে। তাঁদের মতে, এটি হল ইসলামি ষড়যন্ত্র। যখন একজন হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে বা জোর করে ইসলামে ধর্মান্তরিত করা হয়, তখন সেটা হল ‘লাভ জিহাদ’।

শফিনের আইনজীবী হ্যারিস বিরান বলেন, বিয়ের জন্য হাদিয়ার তরফ থেকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মক্কেল সেই বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে হাদিয়াকে বিয়ে করেন। “তাঁদের মধ্যে আগে থেকে কোনো আলাপ-পরিচয় ছিল না”, জানান হ্যারিস।

হ্যারিস বলেন, মেয়ের ধর্মান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁর বাবা দু’ বার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। দু’ বারই আদালতে হলফনামা পেশ করে হাদিয়া জানান, তিনি স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়েছেন। হাইকোর্ট তাঁর বক্তব্য মেনে নিয়েছে।

হাদিয়ার বাবার আবেদনের ভিত্তিতে কেরল হাইকোর্ট শফিন-হাদিয়ার বিয়েকে গত ২৫ মে মেকি বলে ঘোষণা করে এবং হাদিয়াকে তাঁর বাবা-মায়ের অধীনে থাকার নির্দেশ দেয়। হাদিয়ার বাবা তাঁর আবেদনে বলেছিলেন, তাঁর মেয়েকে সম্ভবত আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে কেরল থেকে উধাও হয়ে যাওয়া ২১ জন যুবক ইসলামি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। এদের মধ্যে ছ’ জন ধর্মান্তরিত।

‘জাতীয় স্বার্থ বিপন্ন’, এই মন্তব্য করে কেরল হাইকোর্ট রাজ্যে যতগুলো ‘লাভ জিহাদ’-এর ঘটনা ঘটেছে সে সম্পর্কে অনুসন্ধান এবং জোর করে ধর্মান্তরিত করার ঘটনা নিয়ে তদন্ত করার জন্য কেরলের ডিজিপি-কে নির্দেশ দিয়েছে।

হাইকোর্টের রায় কেরল জুড়ে প্রতিবাদ ঝড় তুলেছে। এই রায়ে একজন সাবালিকা নারীর অধিকার খর্ব হয়েছে বলে বহু মানবাধিকার সংগঠন হাইকোর্টের সমালোচনা করেছে। কিছু সংগঠন হাইকোর্টের বাইরে ধর্নাও দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিচারককে ‘আরএসএস এজেন্ট’ বলে আখ্যাও দেওয়া হয়েছে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here