onam kerala
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: বাঙালিদের যেমন দুর্গাপুজো তেমনই কেরলের বৃহত্তম উৎসব ওনাম। শনিবার থেকে সেই উৎসব মেতে ওঠার কথা ছিল কেরলের। কিন্তু ভয়াবহ বন্যা সব কিছু পালটে দিল। ওনামে মেতে ওঠার বদলে বন্যার ভয়াবহ স্মৃতি ভুলতে চাইছে কেরল।

ওনামের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে একটি পৌরাণিক কাহিনী। জড়িয়ে আছেন পৌরাণিক রাজা মহাবলি। মহাবলি কিন্তু কোনো হিন্দু দেবতা নন। কথিত আছে, মহাবলির রাজ্যে অসাম্য ছিল না, প্রতারণা ছিল না, চুরি ছিল না, শ্রেণি বিভাজন ছিল না, অস্পৃশ্যতা ছিল না, দালাল ছিল না। মর্ত্যে মহাবলির এই জনপ্রিয়তা দেখে, তাঁর সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সফলতা দেখে আতঙ্কিত হয়ে উঠল স্বর্গরাজ্য। বিষ্ণুর অবতার বামন এসে ছলনা করে মহাবলির কাছ থেকে সব চেয়ে নিলেন। এমনকি, মহাবলিকেও। অতল গহ্বরে তলিয়ে গেলেন মহাবলি।

আরও পড়ুন: রান্নাঘরে খরচ বাড়ছে লাফিয়ে, নেপথ্যে কেরলের ভয়াবহ বন্যা!

সব মানুষের শ্রদ্ধেয় এই রাজা বছরের এই সময় মর্ত্যে এসে ঘুরে যান। দেখে যান তাঁর রাজ্যের মানুষজন আনন্দে আছে কি না। এ হেন কল্যাণকামী রাজা মহাবলির মর্ত্যে আগমন পালন করেন কেরলবাসী খাওয়াদাওয়া, নাচগান, আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে।

কিন্তু এ বার কেরলবাসী আনন্দে নেই। উৎসবের দিন পনেরো আগে থেকে শুরু হয়েছিল ভয়াবহ বৃষ্টি। সপ্তাহখানেক চলার পরে সেই বৃষ্টি যখন থামল, তখন কেরল পুরোপুরি বিপর্যস্ত। মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য মানুষের। যাঁরা বেঁচে গিয়েছেন, তাঁদের ঘরবাড়ি জলের তলায়। দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ ত্রাণশিবিরে। বৃষ্টি থেমেছে এক সপ্তাহ হয়েছে, কিন্তু এখনও অনেক জায়গাতেই জল রয়েছে।

কথাকলি নৃত্যশিল্পী, পি মোহনদাস বলেন, “কোনো ফুল নেই, কোনো আলো নেই… যে দিকেই তাকান, দেখবেন হতাশার ছবি। মহাবলি এ বার তাঁর মানুষজনকে আনন্দে দেখবেন না। দেখবেন আমরা কত দুঃখে, কষ্টে রয়েছি।”

আরও পড়ুন: কেরলের বন্যা ত্রাণ তহবিলে অর্থ সাহায্য করতে নিলামে উঠল মোটর বাইক

বন্যার ফলে পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি, ব্যবসা সব কিছু ধাক্কা খেয়েছে। কেরলের চেম্বার অফ কমার্সের সচিব আর শ্রীনিবাসন বলেন, “প্রচুর ব্যবসায়ী এমনও রয়েছেন, যাঁরা বন্যার ফলে বহু বছর ধরে সঞ্চিত জিনিসপত্র হারিয়েছেন।”

সবে বন্যার গ্রাস থেকে মুক্তি পাওয়া বেসরকারি ব্যাঙ্কের এক কর্মী বলেন, “এ বার আমরা ওনাম উৎসব পালন করছি না। ভালো খাওয়াদাওয়াও ভুলে গিয়েছি। ওনামের জন্য যে টাকা আমরা জমিয়েছিলাম সেগুলি বন্যার ত্রাণের জন্য দান করেছি।”

তিরুঅনন্তপুরমের এক ফুল ব্যবসায়ী বলেন, “ওনামের সময়েই আমাদের সেরা ব্যবসা হয়। কিন্তু এ বার সব উলটেপালটে গিয়েছি। খুব কম লোক ফুল কিনছে ওনামে ঘর সাজানোর জন্য।”

আরও পড়ুন: ‘কেরলকে বাঁচাতে গেলে বিদেশি সাহায্য দরকার’, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

সব মিলিয়ে ওনামে এ বার সত্যি মন নেই কেরলের।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন