ফাদার ম্যাথু রবিন বরাক্কুনচেরিল। ছবি সৌজন্যে দ্য হিন্দুস্তান টাইমস।

তালাসেরি (কেরল): ধর্ষণ মামলায় অভিযোগকারিণীর সুর বদলে গেল। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, যাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে কেরলের সেই ক্যাথোলিক ফাদারের সঙ্গে সম্মতিক্রমেই তিনি যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন দু’জনের। শুধু তা-ই নয়, অভিযোগকারিণী আদালতে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ওই পুরোহিতকে বিয়ে করতে চান। শুক্রবার এই খবর দিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ধর্ষণের এই মামলায় সরকারপক্ষ ক্যাথোলিক ফাদার ম্যাথু রবিন বরাক্কুনচেরিল, অভিযোগকারিণীর মা এবং আরও আট জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালের মে মাসে কান্নুর জেলার কোট্টিয়ুর গ্রামের সেন্ট সেবাস্টিয়ানস চার্চে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

বিশেষ প্রসিকিউটর বীণা কলিয়াথ সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগকারিণী গত বুধবার তালাসেরির বিশেষ (প্রোটেকশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেনসেস) আদালতে বলেন, বরাক্কুনচেরিলের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের সময় তিনি নাবালিকা ছিলেন না। “তিনি স্বীকার করেন ফাদারের সঙ্গে তাঁর যৌন সংসর্গ হয়েছিল। কিন্তু সেটা ভয় দেখিয়ে করা হয়নি” – বলেন কলিয়াথ। “তাঁর দাবি, ঘটনাটি যখন ঘটেছিল, সম্মতি দেওয়ার বয়স তখন তাঁর হয়েছে। তিনি আদালতকে জানান, অভিযুক্ত পুরোহিতকে তিনি বিয়ে করতে চান এবং তাঁর শিশুসন্তানের দায়িত্ব নিতে চান”।

আরও পড়ুন রিয়াধ বিমানবন্দরে দুর্ঘটনা থেকে বাঁচল মুম্বইগামী বিমান, আরোহীরা নিরাপদ

বৃহস্পতিবার অভিযোগকারিণীর মা-ও তাঁর বয়ান বদলান। মেয়ের বক্তব্যকে সমর্থন করে তিনিও বলেন, ঘটনার সময় অভিযোগকারিণী নাবালিকা ছিলেন না।  এই ঘটনায় আরেক অভিযুক্ত তাঙ্কাম্মা নেল্লিয়ানি এবং তাঁর আরেক মেয়ে সন্ন্যাসিনী লিজ মারিয়ার কোনো ভূমিকা ছিল না বলে অভিযোগকারিণীর মা জানিয়েছেন। নেল্লিয়ানি ও মারিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা অভিযোগকারিণীর নবজাতককে জন্মের পরেই হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দেন যাতে তিনি না জানতে পারেন যে তাঁর একটি সন্তান হয়েছে।

এই মামলায় তৃতীয় সাক্ষী অভিযোগকারিণীর বাবাও সুর বদল করতে পারেন, এই আশঙ্কায় তাঁকে জেরা করা নিয়ে সরকারপক্ষ এখনও কোনো সিদ্ধান্ত করেনি বলে জানান কলিয়াথ। “তবে ঘটনার সময় নাবালিকা ছিলেন না বলে অভিযোগকারিণী দাবি করলেও সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ দু’ লক্ষ টাকা তিনি নিয়েছেন”, জানান কলিয়াথ।

অভিযোগকারিণীর বাবা প্রথমে বলেছিলেন, তিনিই তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি তাঁর বয়ান বদলান।

অতি সম্প্রতি কেরলে ক্যাথোলিক ফাদারদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিগ্রহের বহু অভিযোগ আসছে। এই সব অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেরলের ক্যাথোলিক চার্চ রীতিমতো বিব্রত।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন