resort politics in karnataka

ওয়েবডেস্ক: গত বছর আগস্টের একটা ঘটনা এখন অনেকেরই মনে থাকতে পারে, আবার অনেকে ভুলেও যেতে পারেন। গুজরাত থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন আহমেদ পটেল। আহমেদের জয় আটকানোর জন্য ঘোড়া কেনাবেচা শুরু করল বিজেপি। কংগ্রেসের বহু বিধায়ক ভাঙিয়ে নিয়ে নিজেদের দলে নিয়ে এল বিজেপি নেতৃত্ব। কংগ্রেস ছাড়লেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা শঙ্করসিংহ বাগেলা। এই আবহে আহমেদকে জেতানোর জন্য মাত্র ৪৪ জন বিধায়ক হাতে ছিল কংগ্রেসের। বিজেপি আরও কাউকে ভাঙিয়ে নিক, তার আগেই তড়িঘড়ি এই বিধায়কদের নিয়ে কর্নাটকে পাঠিয়ে দিল কংগ্রেস। বেঙ্গালুরুর কাছে একটি রিসোর্টে এক স্থানীয় কংগ্রেস নেতার আতিথেয়তায় থাকলেন তাঁরা। বিজেপির পক্ষে আর দল ভাঙানো সম্ভব হল না। জিতে গেলেন আহমেদ পটেল। গোটা ঘটনাবলি ‘রিসোর্ট রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যা পেয়ে যায়।

কাট টু মে ২০১৮, ঠিক এমনই কিছু হতে পারে কর্নাটকেও। বিজেপি বৃহত্তম দল হলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। অন্য দিকে কংগ্রেস এবং জেডিএসের মোট বিধায়ক সংখ্যা মেলালে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে বেশ কিছুটা বেশিই রয়েছে। কিন্তু তাতেও স্বস্তি কোথায়? এক সময়ে গুজরাতে মোদী মন্ত্রিসভার সদস্য তথা কর্নাটকের বর্তমান রাজ্যপাল বাজুভাই বালা, নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন না কি বিজেপির নির্দেশ মানবেন, সেটা জানা যাচ্ছে না। এই আবহে ঘোড়া কেনাবেচা হতে পারে। রাজ্যপাল যদি ইয়েদুরাপ্পাকে সরকার গড়ার ডাক দেন, তা হলে সাত দিনের মধ্যে আট জন বিধায়ক জোগাড় করতে হবে তাদের। অর্থাৎ ঘোড়া কেনাবেচা হবেই। সেটা আটকানোর জন্য তৎপর কংগ্রেস এবং জেডিএস নেতৃত্ব।

ঠিক এই আবহেই যথেষ্ট তাৎপর্যের কেরল পর্যটনের একটি টুইট। মঙ্গলবার ভোটযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেই কেরল পর্যটন একটি টুইট করে জানায়, “কর্নাটকের কঠিন নির্বাচনী যুদ্ধের পরে আমরা সব বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলছি, এখানকার নিরাপদ রিসোর্টগুলিতে কিছু দিন সময় কাটিয়ে যান।” যে ভাবে ‘নিরাপদ’ কথাটি লেখা হয়েছিল সেটিও বেশ তাৎপর্য বহন করছে।

যদিও টুইটটি কিছুক্ষণ পরেই মুছে দেয় কেরল পর্যটন। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। সাড়ে পাঁচ হাজার বার রিটুইট এবং ন’হাজার লাইক পেয়েছে এই টুইট।

উল্লেখ্য, কেরলে এখন বাম জমানা চললেও, বিজেপিকে আটকানোর জন্য সবাই বদ্ধপরিকর। এই পরিপ্রেক্ষিতে কেরল সরকার থেকে খুব পরিকল্পনা করেই এই টুইটটি করা হয়েছিল কি না সেটাই দেখার। এটাও দেখার যে রাজ্যপাল যদি ইয়েদুরাপ্পাকে সরকার গড়ার জয় আমন্ত্রণ করেন তা হলে আগামী অন্তত সাত দিন নিজেদের ১১৬ এবং নির্দল দুই বিধায়ককে ‘বাঁচানোর’ জন্য কংগ্রেস এবং জেডিএস কী করে!

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন