সম্প্রীতির কথা বলা, হুসেনের আঁকার প্রশংসা করার ফল, কেরলের লেখক, অধ্যাপিকাকে হুমকি

0
298

তিরুঅনন্তপুরম: এক জনের অপরাধ, তিনি ধর্মের নামে মারামারি বন্ধ করার জন্য হিন্দু ও মুসলিম মৌলবাদীদের কাছে আবেদন জানিয়ে স্থানীয় একটি দৈনিকে নিবন্ধ লিখেছিলেন। তাই তাঁকে দিন ছয়েক আগে হুমকি-চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ধর্মে অবিশ্বাসীদের যে শাস্তি দেওয়া হয়, আপনাকে সেই শাস্তি দেওয়া হবে। এ-ও বলা হয়েছে, ছ’ মাসের মধ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করলে তাঁর ডান হাত ও বাঁ পা কেটে নেওয়া হবে। আরেক জনের অপরাধ, তিনি মকবুল ফিদা হুসেনের আঁকা সরস্বতীর প্রশংসা কিরেছিলেন। তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় হেনস্থা করে অ্যাসিড আক্রমণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। দু’টি ক্ষেত্রেই পুলিশ অভিযোগ নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে।

প্রখ্যাত মালায়ালাম লেখক ৬০ বছর বয়সি কেপি রামানুন্নি জানিয়েছেন, তাঁকে যে হুমকি-চিঠি দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, “ইসলাম গ্রহণ করুন। আপনাকে ছ’ মাস সময় দিচ্ছি। আপনার বাড়ির মরাইয়ে আপনি বেশি দিন লুকিয়ে থাকতে পারবেন না। দিনে পাঁচ বার নমাজ পড়া এবং রোজা রাখার জন্য তৈরি থাকুন। না হলে ধর্মে অবিশ্বাসীদের যে শাস্তি দেওয়া হয়, আমরা সেই শাস্তি আপনাকে দেব। আপনার লেখা মানুষকে বিশ্বাসের পথ থেকে সরিয়ে আনবে।”

ওই চিঠিতে রামানুন্নিকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, তাঁরও অধ্যাপক টি জে  জোসেফের হাল হবে। “টি জে জোসেফের মতো আপনারও ডান হাত কেটে নেওয়া হবে… বাঁ পা-ও।” ২০১০ সালে একটি মুসলিম জঙ্গি গোষ্ঠী অধ্যাপক জোসেফের ডান হাত কেটে নিয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত করেছেন।

কোঝিকোড়ের বাসিন্দা রামানুন্নি স্থানীয় দৈনিকে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি নিয়ে ছ’ পর্বের একটি উত্তর-সম্পাদকীয় লিখেছিলেন। দৈনিক পত্রিকাটি কেরলের মুসলিম সংগঠন জামাত-ই-ইসলামি চালায়। ওই নিবন্ধে রামানুন্নি লিখেছিলেন, হিন্দুদের শত্রু হিসাবে দেখা উচিত নয় মুসলিমদের। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোই ধর্মীয় গোঁড়ামি আমদানি করেছে। হিংসাশ্রয়ী নিও-লিবারেলিজমের যুগে হিন্দু, মুসলিমদের একযোগে আন্দোলন করা উচিত। রমজান মাসে প্রকাশিত ওই নিবন্ধ প্রচুর মানুষের প্রশংসা পেয়েছিল বলে রামানুন্নি জানান।

রামানুন্নি জানান, ছ’ দিন আগে ওই চিঠি পেয়ে তিনি কোঝিকোড় পুলিশের হাতে তা তুলে দিয়েছেন। ঔপন্যাসিক ও গল্পকার রামানুন্নি প্রচুর পুরস্কার পেয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কেরল সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার, ভায়ালার পুরস্কার ইত্যাদি। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘সুফি পরানজা কথা’ নিয়ে একটি চলচ্চিত্রও হয়েছে। এর বিষয়বস্তু ছিল একটি মুসলিম পুরুষ এবং একটি হিন্দু নারীর প্রেম।

রামানুন্নির মতো হুমকি পেয়েছেন কেরল বর্মা কলেজের অধ্যাপিকা দীপা নিশান্ত। তবে তিনি চিঠি পাননি, তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এস এফ আইয়ের ব্যানারে থাকা এম এফ হুসেনের আঁকা সরস্বতীর প্রশংসা করেছিলেন তিনি। নিশান্ত জানান, তাঁর ছবি বিকৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে। এক জন মন্তব্য করেছেন, এই অধ্যাপিকাকেই পেন্টিং-এর মডেল করা হোক। তাঁকে অ্যাসিড আক্রমণেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান নিশান্ত। তিনি বলেন, “কোনো  কোনো গোষ্ঠী তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেছে, অধ্যাপক টি জে জোসেফের যে দশা হয়েছিল আমারও সেই দশা করা হবে।”

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ফেসবুকে বলেছেন, এ সব হুমকি সরকার সহ্য করবে না। যে সব মানুষ প্রগতিশীল বা ভিন্ন মতবাদ পোষণ করেন, তাঁদের হুমকি দেওয়া হলে বা কলঙ্কিত করার চেষ্টা হলে সরকার তা বরদাস্ত করবে না। এই ধরনের অভিযোগের কড়া হাতে মোকাবিলা করা হবে।”

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here