jharkhand

ওয়েবডেস্ক: প্রকাশ্যে চুম্বন নিয়ে তুমুল ছুঁৎমার্গতে ভোগে এই দেশ। মাঝে মাঝেই শোনা যায় এই মর্মে প্রেমিক-প্রেমিকার হেনস্তার কথা। কখনও বা সেই সব লাঞ্ছনার ইতিবৃত্তে নাম জড়িয়ে থাকে রাজনৈতিক দলেরও! কিন্তু এ বার সব সংস্কারের বেড়া ভেঙে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার উদ্যোগে ডামুরিয়ায় সাড়ম্বর পালিত হল প্রকাশ্য চুম্বন প্রতিযোগিতা।

পাকুড় জেলার এই গ্রামটি রাঁচি থেকে ৩২১ কিমি দূরে। প্রতি বছর শীত এলেই গ্রাম মেতে ওঠে বার্ষিক উৎসবে। বসে মেলা, চলে নানা মজাদার প্রতিযোগিতা। গত ৩৭ বছর ধরে জন্মভূমি ডামুরিয়াতে এমন আনন্দের আবহ রচনা করে আসছেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার বিধায়ক সিমন মারান্ডি। মূলত তাঁর উদ্যোগেই ডামুরিয়ায় এই বার্ষিক উৎসব পালিত হয়।

তবে গত ৩৭ বছরে এমন চমকে দেওয়ার মতো কোনো প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়নি ডামুরিয়ায়। এ বার তবে এই বিশেষ প্রতিযোগিতা কেন?

“খেয়াল করে দেখবেন, উপজাতির মানুষরা খুব সহজ-সরল হন। তার পাশাপাশি শিক্ষার বিস্তারও ওঁদের মধ্যে তেমনটা নেই। ফলে হচ্ছে কী, উপজাতির মধ্যে হালফিলে বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে। ভেঙে পড়ছে সুখী গৃহকোণের প্রচলিত ধারণাটি। তাই জনসচেতনতা বাড়াতে, নতুন প্রজন্মে সাংসারিক জীবনের গুরুত্ব স্থাপন করতে প্রকাশ্যে চুম্বন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এর মধ্যে দিয়েই দম্পতিরা নতুন করে পরস্পরকে ভালোবাসতে শিখবেন”, জানিয়েছেন মারান্ডি।

যদিও অবিবাহিত তরুণ প্রজন্ম এই চুম্বন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এই প্রতিযোগিতা সীমিত ছিল কেবল দম্পতিদের মধ্যেই। জানা গিয়েছে, সব মিলিয়ে ১৮টি পরিবার এই প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়। বিশাল এক মাঠে তাঁরা ঘুরতে ঘুরতে চুম্বন করতে থাকেন পরস্পরকে। যা বিশেষ ভাবে সেজে উঠেছে এ বারের উৎসবের জন্যই।

মারান্ডি জানিয়েছেন, “এত দিন পর্যন্ত এই বার্ষিক উৎসবের আয়োজন হত অন্য এক মাঠে। সেই মাঠ খুব একটা বড়ো ছিল না। এ দিকে মেলার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় সেই মাঠে আর লোকসংস্থান হচ্ছিল না। তাই আমরা এ বার এক বিশাল ফুটবল খেলার মাঠে মেলা বসিয়েছি। তাতে লাভও হয়েছে। স্বচ্ছন্দে হাজার হাজার মানুষ মেলা উপভোগ করতে পেরেছেন, ভিড়ের চোটে কারও অসুবিধা হয়নি!”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here