খবর অনলাইন ডেস্ক: সোমবারই পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষায় বাংলা ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য সরকার। সেই নিয়ে বিতর্ক চলছে জমজমাট। সব প্রশ্নের উত্তর মেলা এখনও বাকি। তর্ক চলুক, চলুক সমর্থন-বিরোধিতা। এই ফাঁকে চলুন আমরা জেনে নিই ভারতের এমন চারটি গ্রামের কথা, যেখানে সংস্কৃত সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা। নিত্যদিনের কাজ-কারবার সেখানে সংস্কৃতেই হয়। বলাই বাহুল্য প্রতিটি গ্রামেই অত্যন্ত ক্ষমতাশালী স্থানীয় ব্রাহ্মণরা। তাঁদের রুটিরুজিরও যোগান দেয় এই ভাষা। তাই তাঁদের উদ্যোগ এবং প্রভাবেই চলে এই বন্দোবস্ত।

মাত্তুর, কর্নাটক

বেঙ্গালুরু থেকে ৩০০ কিমি দূরে কর্নাটকের সিমোগা জেলার গ্রাম মাত্তুর। শান্ত, ঘটনাহীন এই গ্রামের ৫০০০ অধিবাসীর বেশিরভাগই কথা বলেন সংস্কৃতয়। সে তনি দোকানদারই হন বা শ্রমিক। শিশুরাও দিব্যি কথা বলে সংস্কৃতয়। গ্রামে ঘুরলেই শুনতে পাবেন ‘কথাম অস্থি?’(কেমন আছো?) বা ‘অহম গচ্ছামি’(আমি যাই)। নানা মন্দির, শিবালয়ে পূর্ণ এই গ্রামে সংস্কৃতকে মুখের ভাষা করে তোলার প্রধান কারিগর গ্রামের সাকেতি ব্রাহ্মণরা। গত শতকের আশির দশকে এই বিষয়ে উদ্যোগী হন তাঁরা। গ্রামবাসীদের সংস্কৃত শিক্ষা দেন। এই গ্রামের বেশিরভাগ শিশু তাঁদের স্কুলে প্রথম ভাষা করেছে সংস্কৃতকে।

হোশাল্লি, কর্নাটক

মাত্তুরের পাশেই হোশাল্লি। তুঙ্গা নদীর তীরের এই গ্রাম পরিচিত তার গামাকা শিল্প(গানে গানে গল্প বলা) ও সঙ্গীতের জন্য। কিন্তু মাত্তুর ও হোশাল্লি সর্বদা একসঙ্গে উচ্চারিত হয় একটাই কারণে। এই দুই গ্রামের মানুষেরই রোজকার দিনযাপনের ভাষা সংস্কৃত। মাত্তুরের মতো হোশাল্লির বেশিরভাগে মানুষই কথা বলেন সংস্কৃতয়।

ঝিরি, মধ্যপ্রদেশ

ইন্দোর থেকে ১৫০ কিমি উত্তরে মধ্যপ্রদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রাম ঝিরি। ১০০০ বাসিন্দার এই গ্রামের খুব কম মানুষই স্থানীয় ভাষা মালয়ি-তে কথা বলেন। গত প্রায় দুই দশক যাবৎ, তাঁদের স্থানীয় ভাষাকে দূরে সরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে সংস্কৃত। উদ্যোগ স্থানীয় ক্ষমতাশালী ব্রাহ্মণদের। বিদ্রূপ, অভিনন্দন, কলতলার ঝগড়া, শিক্ষাদান- সবই এখানে হয় প্রাচীন ভাষায়।

সাসানা, ওড়িশা

ওড়িশার উপকূলবর্তী গজপতি জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম সাসানা। গ্রামের প্রায় প্রতি ঘরেই রয়েছেন সংস্কৃত ভাষার পন্ডিত। গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দাই ব্রাহ্মণ। ৫০ ঘরের এই গ্রামে সাকুল্যে ৩০০ মানুষের বাস। প্রতিটি ঘরে যেসব সংস্কৃত ভাষার পন্ডিতরা রয়েছেন, তাঁরা সকলেই সরকারি সংস্কৃত মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

এই চারটি গ্রামে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সংগঠন কতটা শক্তিশালী, তা অবশ্য উইকিপিডিয়ায় নেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here