pathargadi

ওয়েবডেস্ক: অনেকেই ব্যাপারটা জানেন না যে ভারতের কিছু রাজ্যে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে সম্পূর্ণ ভাবে সমান্তরাল সরকার চলছে। আদিবাসীরাই এই সরকার চালাচ্ছে। তাদের নিজেদের ব্যাঙ্ক রয়েছে, রয়েছে নিজস্ব পুলিশও। আদিবাসীদের এই কীর্তি নিয়ে বেশ চিন্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তাদের ধারণা, মাওবাদীদেরও সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে এখানে।

গত মাসে ঝাড়খণ্ডের একটি রোমহর্ষক গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেখানে মানবপাচার বিরোধী সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে একটি নাটক মঞ্চস্থ করার সময়ে অপহরণ করা হয় পাঁচ সমাজকর্মীকে। তার পরে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তাদের ধর্ষণ করা হয়। এই কাণ্ডে নাম জড়ায় পাথরগড়ি আন্দোলনের নেতাদের। এমনকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে যাওয়ার সময়ে পুলিশকেও অপহরণ করা হয়। যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁদের কালিমালিপ্ত করার জন্য পুলিশ দুষ্কৃতীবাহিনী দিয়ে ওই কাণ্ড ঘটিয়েছে। যাতে ওই অপরাধের তদন্তের সুযোগ নিয়ে পুলিশ ওই এলাকায় ঢুকতে পারে। কিন্তু, ওই ঘটনার পরই দেশজুড়ে নজরে পড়ে পাথরগড়ি আন্দোলন।

এই পাথরগড়ি আন্দোলনের অনুগামীরাই ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা, ছত্তীসগঢ় এবং মধ্যপ্রদেশের বেশ কিছু অঞ্চলে সমান্তরাল সরকার চালায়। এই সব এলাকায় সরকারি কোনো পরিষেবা পৌঁছোতে পারে না। ঢুকতে দেওয়া হয় না সরকারি কর্মীদের।

এই রাজ্যগুলির পুলিশের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, পাথরগড়ির দখলে থাকা গ্রামগুলিতে গ্রামসভা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। গ্রামগুলিতে যদি অনাদিবাসী কেউ যান, তা হলে তাঁর থেকে টাকা নেওয়া হয়। ‘ব্যাঙ্ক অফ গ্রাম সভা’ নামক সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যাঙ্ক চালানো হয়। এ ছাড়াও নিজেদের হাসপাতাল এবং স্কুলও তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতালগুলিতে আদিবাসীদের পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয় রোগীদের আর স্কুলগুলিতে নিজেদের শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

নিজস্ব ব্যাঙ্কের পাশবই

পাথরগড়ির সব থেকে বেশি প্রভাব এখন রয়েছে ঝাড়খণ্ডের খুঁটি, পশ্চিম সিংভুম এবং সরাইকেলা জেলায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় গোয়ান্দা সংস্থাগুলির চিন্তা এটা ঝাড়খণ্ড ছাড়িয়ে বাকি রাজ্যগুলিতেও ছড়িয়ে পড়বে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সব থেকে বেশি চিন্তা আদিবাসীদের নিজস্ব পুলিশকর্মীদের নিয়ে।

একজন পুলিশ আধিকারিক এই প্রসঙ্গে বলেন, “আদিবাসীরা যে ভাবে নিজেদের পুলিশবাহিনী তৈরি করছে সেটা আমাদের চিন্তার বিষয় তো বটেই। আমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যই এই বাহিনী ব্যবহার করা হবে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাহিনীতে ঢোকার জন্য গত সপ্তাহেই ৫০০ জনের আবেদন জমা পড়েছে। খুব তাড়াতাড়িই তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভাবিয়ে তুলছে মাওবাদীদের উপস্থিতিও। প্রথম থেকে অবশ্য এই আন্দোলনে মাওবাদীদের ভূমিকা কিছু ছিল না। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে ওরাও এখানে ঢুকে পড়ছে। মাওবাদীদের প্রথম সারির নেতারা এখানে যুক্ত রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।”

নিজস্ব পুলিশবাহিনী নিয়েই সব থেকে বেশি চিন্তা পুলিশের। সরকারি পুলিশকর্মীদের অপহরণ করতেও বিন্দুমাত্র পিছপা হয় না তারা। শুধু তা-ই নয়, অপহৃত পুলিশ কর্মীদের ছাড়ানোর জন্য প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে পুলিশকে। গ্রামসভায় অনুরোধ করার পরে ছাড়া পেয়েছেন তাঁরা।

নিজেদের প্রশাসনিক ভবনও তৈরি করেছে আদিবাসীরা।

কী ভাবে এই পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করা হবে সেটা নিয়েও চিন্তায় নিরাপত্তাবাহিনী। কারণ আদিবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে যদি একজন আদিবাসীরও মৃত্যু হয়, তা হলে তার ফল মারাত্মক হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি চিন্তা বাড়াচ্ছে নিজস্ব চিকিৎসাব্যবস্থাও। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “ওরা নিজেদের চিকিৎসা ব্যবস্থা শুরু করেছে। আদিবাসী পদ্ধতিতে মানুষের চিকিৎসা করা হয়। ওরা এটার নাম দিয়েছে ‘হোরোপ্যাথি’। ওদের দাবি এতে নাকি ক্যানসার এবং ডায়বেটিসের মতো রোগও সেরে যেতে পারে।”

গত বছরে এই সময়েই প্রথম বার পাথরগড়ির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। খুঁটি জেলার একটি গ্রামে প্রথম বার পাথরগড়ির সূচনা করা হয়। তার পর থেকে ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করেছে এই আন্দোলন। এখানে সরকারি ভোটার কার্ড বা আধার কার্ডের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। ভারতীয় সংসদকেও মানেন না এখানকার গ্রামবাসীরা।

সূত্র: নিউজ ১৮

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here