রাজ্য ভাগ নয়, ৩৫-এ ধারা বিলুপ্তিও নয়, অমরনাথ যাত্রা বাতিলের আসল কারণ জেনে নিন

Amarnath Yatra
ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: “কয়েক দিনের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙে দেবে কেন্দ্র। জম্মুকে আলাদা রাজ্য করা হবে, কাশ্মীর এবং লাদাখ দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে। এর ফলে কাশ্মীরের শাসনভার সরাসরি কেন্দ্রের হাতে চলে যাবে। এর ফলে বিলুপ্তি ঘটবে ৩৭০ ধারার…।”

উক্ত লেখাটি অনেকেই হয়তো শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পেয়েছেন। কাশ্মীর উপত্যকায় বাহিনীর বাড়বাড়ন্ত এবং রাতারাতি অমরনাথযাত্রা বাতিলকে কেন্দ্র করে নানা রকম গুজব ছড়িয়েছে। তার মধ্যে একটা গুজব এই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজটি। বুঝতে অসুবিধা নেই, মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিতেই এই ধরনের মেসেজ পাঠানো হচ্ছে।

এই মেসেজটাই ছড়িয়ে পড়ছে হোয়াটসঅ্যাপে।

এর পাশাপাশি আরও কিছু গুজব ছড়াচ্ছে। কেন্দ্র নাকি ৩৫-এ ধারা তুলে দেবে। যদিও এই সব গুজবই উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। বিবৃতি দিয়েই তিনি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যপালে যে দাবিটি করেছেন, কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। নিরাপত্তাই মূল কারণ বলে জানিয়েছেন সরকারি ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র।

গোয়েন্দা সূত্রে ভারত জানতে পেরেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কাশ্মীরে একাধিক ভয়াবহ হামলা চালানোর জন্য তৈরি হচ্ছে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি। শুক্রবার কাশ্মীরের সোপোরে নিরাপত্তাবাহিনীর সাঁজোয়াগাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল জইশ-এ-মহম্মদ ঘনিষ্ঠ কয়েক জন জঙ্গি। এই হামলা ভারতের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে।

গত মাসে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফ্‌ফরাবাদে দেখা গিয়েছে জইশপ্রধান মাসুদ আজহারের ভাই ইব্রাহিম আজহারকে। ১৯৯৯ সালে কান্দাহার বিমান অপহরণের মূল হোতা ছিল এই ইব্রাহিম। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, নিজের ছেলে উসমানের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা করছে ইব্রাহিম। গত বছর অক্টোবরে পাকিস্তান থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল উসমান। ৩০ অক্টোবর নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয় সে।

আরও পড়ুন ভারতের ইতিহাসে উষ্ণতম জুলাই, জানাল আবহাওয়া দফতর

এই ঘটনা ইব্রাহিমকে রাগিয়ে দিয়েছে বলে জানাচ্ছেন গোয়েন্দারা। নিজের ক্যাডারদের সে বলেছে, যে ভাবেই হোক ভারতীয় বাহিনীর ওপরে পালটা হামলা করে এর প্রতিশোধ সে নেবেই। গত কয়েক দিনে পাকিস্তানের দুই জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-এ-মহম্মদ এবং লস্কর-এ-তৈবা নিজের কাজকর্ম হঠাৎ করে বাড়িয়ে দিয়েছে, সেটাই নজরে পড়েছে গোয়েন্দাদের।

এই প্রসঙ্গেই জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো হামলা চালাতে তো পারেই, সেই সঙ্গে অমরনাথের রাস্তায় যে ভাবে পাক বাহিনীর রাইফেল উদ্ধার হয়েছে, সেটা আমাদের চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এতে আরও একটা সুবিধা হয়েছে, যে যাত্রাপথের নিরাপত্তার জন্য যত জওয়ান মোতায়েন ছিল, সবাইকে জঙ্গি দমনে নিয়ে আসা হয়েছে।”

কাশ্মীর উপত্যকার তুলনামূলক ভাবে শান্ত অঞ্চল সোপোরে বাহিনীর ওপরে হামলার ছক কষছে জইশ। এমন খবর গোয়েন্দাদের কাছে রয়েছে। সে কারণে উত্তর কাশ্মীরে বেশি করে বাহিনী পাঠানো হয়েছে। অন্য দিকে অশান্ত দক্ষিণ কাশ্মীরকে আরও অশান্ত করে তোলার জন্য হিজবুলের মতো স্থানীয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছে জইশ।

সব মিলিয়ে নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি না নিতেই রাতারাতি রাজ্য থেকে তীর্থযাত্রী এবং পর্যটকদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.